বাড়ি চট্টগ্রাম সম্ভাবনার স্বপ্নডানায় চট্টগ্রাম।

সম্ভাবনার স্বপ্নডানায় চট্টগ্রাম।

80

প্রতিনিধি, মোঃ হাসান মুরাদ: বার আউলিয়ার পুণ্যভূমি চট্টগ্রাম। ঐতিহাসিকদের মতে চট্টগ্রাম শহরের বয়স প্রায় এক হাজার দু’ শ’ বছরেরও বেশি। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতক থেকে আরব আর ইউরোপীয় বণিকরা ব্যবসায়িক উদ্দেশে চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করছিল। বিশ্বে যে কয়টি চলমান বন্দর আছে, চট্টগ্রাম বন্দর তাদের অন্যতম। বিশ্বের অনেক দেশের বন্দর অকার্যকর হয়েছে কালের পরিক্রমায়। চট্টগ্রাম বন্দর এখনও স্বমহিমায় জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। ইতিহাস-ঐতিহ্যের দিক থেকে চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অন্যান্য জেলা থেকে অনেক বেশি স্বতন্ত্র। পঞ্চাশ-ষাটের দশকে এ শহরের যে জৌলুস ছিল বর্তমানে তার সিকি ভাগও নেই। কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে চট্টগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর চট্টগ্রামের স্বকীয়তা ফিরিয়ে আনতে শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগে যানজট নিরসন, চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে খাল খনন, পুনর্খনন, সম্প্রসারণ, সংস্কারে বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ১০০ বছরের কথা চিন্তা করেই চট্টগ্রাম মহানগরীর যানজট সমস্যা সমাধানে ফ্লাইওভার, আউটার রিং রোড, কর্ণফুলী টানেলসহ উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। ফলে ইতোমধ্যে বদলে যেতে শুরু করেছে বন্দর ও বাণিজ্য নগরী চট্টগ্রাম। এম এ মান্নান ফ্লাইওভার ২০১০ সালের ডিসেম্বরে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালের সঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা এবং কক্সবাজারের সংযোগ রক্ষাকারী সড়কে ১০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এক দশমিক ৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ চট্টগ্রামের প্রথম এই ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। ১২ অক্টোবর ২০১৩ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক উদ্বোধনের পর ফ্লাইওভারটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় আড়াই মাস আগেই যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। উদ্বোধনের পরও ফ্লাইওভারটি কার্যকর না হওয়ায় ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আরাকান সড়কমুখী র‌্যাম্প নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে সিডিএ। ৩২৬ মিটার দীর্ঘ এবং ৬ দশমিক ৭ মিটার চওড়া র‌্যাম্পটি নির্মাণ শেষে ইতোমধ্যে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়। র‌্যাম্প সংযুক্তির মাধ্যমে পূর্ণতা পেয়েছে এমএ মান্নান ফ্লাইওভার। দেওয়ানহাট ফ্লাইওভার চট্টগ্রাম মহানগরীর সবচেয়ে যানজটকবলিত এলাকা দেওয়ানহাট মোড়। নগরীর প্রধান সড়ক এশিয়ান হাইওয়ে এবং ঢাকা চট্টগ্রাম ট্রাঙ্ক রোড এই মোড়ে পরস্পরের উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে। এশিয়ান হাইওয়ের উপর দিয়ে চলাচলকারী গাড়ি এবং কদমতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল, শুভপুর বাস স্টেশন এবং কদমতলী ট্রাক স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রায় সব গাড়িকে এই মোড় অতিক্রম করে চলাচল করতে হয়। এতে করে সকাল থেকে গভীর রাত অবধি নগরীর এই মোড়ে যানজট লেগে থাকত। এই অবস্থার অবসানে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ২০১২ সালের আগস্ট মাসে দেওয়ানহাট মোড়ে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ১৩২ ফুট লম্বা এবং ২৮ ফুট প্রস্থ ফ্লাইওভারটি নির্মাণ শেষে ১২ অক্টোবর, ২০১৩ সালে যানচলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। ঢাকা চট্টগ্রাম ট্রাঙ্ক রোডের উপর নির্মিত এই ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে আন্তঃজেলা বাস এবং পণ্য বোঝাই ট্রাকগুলো কোন ধরনের বাধা ছাড়াই চলাচল করছে। অপরদিকে ট্রাকসহ ভারি যানবাহনের জটলায় পড়ে দেওয়ানহাট মোড়ে এশিয়ান হাইওয়ের উপর দিয়ে চলাচলকারী গাড়িগুলোকে যেই বেহাল অবস্থায় পড়তে হতো তারও অবসান ঘটেছে। ফ্লাইওভারটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার পর থেকে দেওয়ানহাট মোড়ের চিরচেনা যানজট আর নেই। কদমতলী ফ্লাইওভার ,কদমতলী চট্টগ্রাম নগরীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম জংশন। এই এলাকায় রয়েছে তিনটি বাস টার্মিনাল। আন্তঃজেলা টার্মিনাল, বিআরটিসি এবং চট্টগ্রাম-শুভপুর বাস টার্মিনাল, যেখান থেকে বৃহত্তর নোয়াখালী, কুমিল্লা ও রাঙ্গামাটিসহ বিভিন্ন গন্তব্যে প্রতিদিন শত শত বাস ছেড়ে যায়। এ ছাড়া চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের অবস্থানও বেশ কাছাকাছি। সব মিলিয়ে প্রতিনিয়ত যানজটে নাকাল অবস্থা নিউমার্কেট হতে স্টেশন রোড হয়ে দেওয়ান হাট পর্যন্ত। তাছাড়া বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় দেওয়ানহাট ওভারব্রিজের ওপর যানবাহনের অত্যধিক চাপ পড়ে। নগরবাসীকে যানজট থেকে পরিত্রাণ দিতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ২০১২ সালে ১ দশমিক ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এই ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ফ্লাইওভারটি ৩০ জানুয়ারি ২০১৬ প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মাধ্যমে যানচলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছিল। বহুল প্রতিক্ষিত উড়াল সড়কটি চালু হওয়ায় ব্যস্ততম নিউমার্কেট হতে আগ্রাবাদ পর্যন্ত সড়কে জনজীবনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভার ,চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা এবং চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতি মোতাবেক চট্টগ্রাম শহরের যানজট নিরসনে ২০১০ সালে ১ জুন ও ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সংশোধিত ডিপিপিতে মুরাদপুর-ওয়াসা ‘আখতারুজ্জামান চৌধুরী’ ফ্লাইওভার প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়। ২০১৪ সালের ১২ নবেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পটির নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ৫.২ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার ষোলশহর দুই নম্বর গেট এবং জিইসি মোড়ে স্থাপিত র‌্যাম্পসহ দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ৮ কিলোমিটারে উন্নীত হয়েছে। চট্টগ্রামে এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় এই ফ্লাইওভারটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৬৯৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ফ্লাইওভারটির কাজ পুরোপুরি শেষ না হলে ও দুই লেনের কাজ শেষ হওয়ার পর নগরীতে যানজটের চাপ কমাতে ১ জুন ২০১৭ ঈদের আগে সাধারণ মানুষের কেনাকাটার সুবিধার্থে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছিল। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃর্পক্ষের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নির্মিত ফ্লাইওভারটিতে পুরোদমে যান চলাচল শুরুর কারণে মুরাদপুর বিমানবন্দর সড়কে দীর্ঘ দিনের যানজট থেকে রেহাই পাচ্ছেন নগরবাসী। যানজট কমাতে ইতোমধ্যে নগরীর ষোলশহর এলাকায় চালু করে দেয়া হয়েছে ফ্লাইওভারমুখী লুপ। সম্প্রতি লুপটি চালু হওয়ার পর পাল্টে যায় ব্যস্ততম ষোলশহর এল