এ সমা‌জে মে‌য়েরা কতটুকু নিরাপদ?

এ সমা‌জে মে‌য়েরা কতটুকু নিরাপদ?

37
SHARE

প্রতিনিধি,মোঃহাবিবুর রহমান (সুজন) অনেক দিন থেকেই ভাবছি লিখবো সময়ের অভাবে লেখা হয়ে উঠছিলো না। ঘটনাটা প্রায় ২০/২৫ দিন আগের। ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি লালমা‌টিয়া আড়ং এর পিছনের মাঠের কােনায়। সময় আনুমানিক সন্ধ্যা ৭ কিংবা সাড়ে ৭টা। বৃষ্টিদের তখন প্রায় চলেই গিয়েছে। রাস্তার পাশের চা এর দোকানে দাড়িঁয়ে অপেক্ষা করছি আমার দুই বন্ধুর জন্য। নেশা না থাকলেও চা এর জন্য বললাম দোকানীকে। চায়ের অপেক্ষায় দাঁড়াতে দাঁড়াতে আমার দুই বন্ধুও হাজির হলো। দেশ, জাতী নিয়ে আড্ডাবাজী করছিলাম। এমন সময় দুইটি মেয়ে আসলো দোকানে চা খাবার জন্য। যথারিতি তারাও চা এর অর্ডার দিয়ে অপেক্ষা এবং নিজেদের মধ্যে গল্প করছিলো। আমাদের ধারনা মেয়ে দুটি কলেজ হোস্টেলে থাকে। বয়স ১৮ থে‌কে ২২ এর ম‌ধ্যে হ‌বে। আমাদের পাশে এসে দাঁড়ালো আনুমানিক ৪০/৪২ বছরের এক লোক। পোশাক পরিচ্ছেদ মোটামুটি খারাপ বলা যায় না তবে ভদ্রলোক বলাটা ঠিক কতটুকু যুক্তিযুক্ত হবে বুঝতেছিনা। নাম না জানা সেই লোক, মিনিট খানিকের মধ্যে বেশ কয়েকটি মন্তব্য করে বসলো মেয়ে দুটির সম্পর্কে। যা কোনো মানুষ স্বভাবিক থাকা অবস্থায় করতে পারে বলে আমাদের মনে হয় নাই। বলা যায়, মেয়েদের শরিরের সবগুলো অঙ্গ ইতোমধ‌্যে স্ক‌্যান করা হয়ে গেছে সেই লোকটির। সেই লােকটি নিজে নিজেই মন্তব্যগুলো করছে মেয়েদের শুনিয়ে। তার মন্তব্যগুলো এখানে লিখলে মেয়েগুলো কিংবা মানুষ হিসেবে নিজেকে বেশ ছোট করা হবে। তাই মন্তব্যগুলো লিখছিনা। তাও দু একটি শব্দ না বললে ঐ লোকের চরিত্র বুঝানো যাবে না। তার কথার ধরন ছিলো এমন- ‘বেশ খাশা …’ ‘সাইজগুলো…’ ‘আজ রাতে তার হলে….’ব্লা ব্লা ব্লা…।

মেয়েগুলো চা এর অর্ডার দিয়েও চা না খেয়েই চলে যেতে বাধ্য হলো। হয়তো বাসায় গিয়ে বেশ কিছুক্ষন বমি করেছে। মন্তব্যগুলোতে চা এর দোকনী বেশ মজা পাচ্ছিলো বলেই মনে হলো। আর আমরা তিনবন্ধু ইতোমধ‌্যে কথা বলার ভাষাও হারিয়ে পেলেছি। মেয়েগুলো চলে যাবার পর ঐ নর্দমার কিটও র্শূন্যে মিলিয়ে গেলো। ঐদিন কোনো এক অজানা কারনে প্রতিবাদ করতে পারি নাই। প্রতিবাদ না করার যন্ত্রনাথেকেই মূলত এই লেখা। এখন মনে হয় মেয়েরা প্রতিবাদ করলেই আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে পারতাম। আবার মনে হয়, মেয়েগুলো হয়তো আমাদেরকেও ঐ লোকের মত ভাবছিলো তাই নি:স্বব্দে স্থান ত্যাগ করেছে। মেয়েদের পোশাক ছিলো ভদ্র, উশৃঙ্খল কোনো আচরনও তাদের মধ‌্যে ছিলোনা। তা হলে কেনো এ বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে আমার বোন, স্ত্রী কিংবা আদরের ছোট্ট মেয়েটি? মাঝে মঝে মনে হয়, আমরা মানুষ হিসেবে কবে নিজেদের পরিচয় দিতে পারবো। দুই’একটা নর্দমার কিটের জন্য কি সমগ্র পুরুষ সমাজ খারাপ হিসেবে পরিচিত হবে? ঐ মেয়েদুটি বাসায়গিয়ে তার ভাই কিংবা বাবার দিকে তাকালে ঐ লোকটির চেহারা মনে পড়বে না? এ সমাজে পুরুষদের সাথে সকল ক্ষেত্রে মেয়েরাও সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে, তা হলে কেনো একটা মেয়ে সন্ধ্যা ৭ কিংবা ৮টায় একাকি চা খেতে বের হতে পারবে না? শুধু কি সন্ধ্যার পর! না তা নয়, দিনের বেলায়ও আমাদের এ সমাজে মেয়েরা কতটুকু নিরাপরদ? আমি বলবো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিরাপদ তবে এদের মত দুই’চার জনের কাছে অন্য কোনো মেয়ে কেন, তার ঘরের মেয়েরাই বা কতটুকু নিরাপদ? আমি সর্বোচ্চ সম্মান নিয়েই বলছি। দুই’চার কিংবা ১০০টি ফেইজ কিংবা কয়েকটি ওয়েবসাইট এ কয়েকটি লেখা কি আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে পারবে? কিংবা আমাদের মানসিকতা কতটুকু পররিবর্তন হয়েছে? প্রচলিত আইন সর্ম্পকেই বা আমরা/ আমাদের নারীরা কতটুকু সচেতন? আমারকাছে মনে হয় সবার আগে প্রয়োজন আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন এবং নারী কিংবা পুরুষ সবাইকে মানুষ হিসেবে মনে করা।