একটি অবহেলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘যাদবপুর উচ্চ বিদ্যালয়’, যার পাশে দাড়ানোর আহবান!

একটি অবহেলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘যাদবপুর উচ্চ বিদ্যালয়’, যার পাশে দাড়ানোর আহবান!

43
SHARE

কিউ২৪নিউজ ডেস্ক:চাঁদপুর জেলা শাহরাস্তি উপজেলার পূর্ব সীমান্তবর্তী গ্রাম যাদবপুর । এই গ্রামে “মৌলভী আকরাম আলী উচ্চ বিদ্যালয়” নামে একটি  বিদ্যালয় রয়েছে যা ‘যাদবপুর উচ্চ বিদ্যালয়’ নামে সমধিক পরিচিত। কিছু দানবীর মানুষের সহায়তায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাদান কার্যক্রম চলছে। প্রতিষ্ঠানটিতে পর্যাপ্ত শ্রণি কক্ষ, শিক্ষার্থী কমন রুম স্বাস্থ্য সন্মত সেনিটেরীসহ প্রয়োজনীয় অনেক কিছুরই অভাব রয়েছে । আছে ভাঙ্গাচুরা টিনের ২টি ঘর যা কিনা এলাকার মানুষের দান । এখানে সরকারি কোন সহয়োগিতা নেই । প্রতিষ্ঠানটি এমপিও ভুক্ত নয় ।

 

গত ৫ মে বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে হেঁটে যাবার সময় স্বভাব সুলভ কারনে মনে হ’ল প্রতিষ্ঠানটি একটু ঘুরে দেখি । প্রতিষ্ঠানটির ভিতরে গিয়ে যা দেখলাম তা দেখে চোখ ছানাবড়া । বিদ্যালয়টিতে ৩৫০জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত ।  শিক্ষকদের অফিস কক্ষে বসার তেমন একটা ভাল ব্যবস্থা নেই, শিক্ষার্থীদের বসার বেঞ্চের যথেষ্ট অভাব রয়েছে, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি অন্যরা দখল করে আছে, লাইব্রেরী নাই বল্লেই চলে, ব্যক্তি  উদ্যোগে একটি পাকা টিন সেড ভবনের নির্মান কাজ চলছে কিন্তু তেমন মজবুত বলে মনে হয়নি। বিদ্যালয়ের মাঠটি কর্দমাক্ত, সারা মাঠে কৃষক/কৃষাণীরা ধান ও খড় শুাকাচ্ছেন ।  বিদ্যালয়ের সাথে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও আছে । এই প্রতিষ্ঠনটি অনেক অবহেলিত মনে হয়েছে । এলাকার দানবীর ও শিল্পপতি জনাব শাহজালাল মজুমদারের দানে প্রতিষ্ঠানটি খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে । তিনি এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন ।

 

অনেক অভাব অনুযোগের মাঝেও এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকগন তাদের সাধ্যমত শিক্ষা কার্য়ক্রম  পরিচালনা করছেন । তারা স্বপ্ন দেখেন ভবিষতে এই প্রতিষ্ঠানটির হাল কেউনা কেউ ধরবেন । নাম মাত্র বেতনে অনেকটা বিনা পয়সাই তারা শিক্ষাদানে নিয়োজিত আছেন ।

 

বর্তমান সরকার শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে অনেক উন্নতি করেছে কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানে কেন যে কোন প্রকারের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি তার জবাব আমরা কার নিকট চাইবো ?  আমরা শিক্ষাসহ অনেক কিছু নিয়ে গর্ব করি কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানে কেউ ঘুরে আসলে আমাদের বড় মাথা ছোট হবে । আমরা আশা করি, এই প্রতিষ্ঠানের  শিক্ষা কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচানায় সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষ হস্তক্ষেপ করবেন ।

 

একথা সত্য যে, আমরা শিক্ষার উন্নয়নে অনেক বেশি গুরুত্ব দিলে আমাদের জাতী দ্রুত উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছবে । শিক্ষা ছাড়া সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও তা বেশি দিন ধরে রাখা যাবেনা ও স্থায়ী হবেনা ।

 

আমরা আশা করি, প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন ।