জহুর আহমদ চৌধুরী আদর্শনিষ্ঠ পরিপূর্ণ রাজনীতিবিদ।

জহুর আহমদ চৌধুরী আদর্শনিষ্ঠ পরিপূর্ণ রাজনীতিবিদ।

56
SHARE

কিউ২৪নিউজ ডেস্ক:জহুর আহমদ চৌধুরী আদর্শনিষ্ঠ পরিপূর্ণ রাজনীতিবিদ ।তিনি বাংলাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ হিসেবেও আখ্যায়িত। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ শত্রুমুক্ত হলে ঢাকা বেতার কেন্দ্র থেকে মুজিবনগর সরকারের পক্ষে প্রথম ভাষণ দেন জহুর আহমদ চৌধুরী।তিনি একাধারে রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, শ্রমিক আন্দোলনের পথিকৃৎ নেতা, ভাষাসৈনিক, বরেণ্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার সদস্য। সব পরিচয় ছাপিয়ে তার বড় পরিচয় হলো গণমানুষের নেতা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধু পাঠানো স্বাধীনতার বার্তাটি সর্বত্র ছড়িয়ে দেন তিনি। স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিভোর এই প্রাণপুরুষ মুক্তির পতাকাটি ছড়িয়ে দিয়েছেন দেশজুড়ে। অসীম সাহসে নিরন্তর পথ চলেছেন অবিচল আস্থায়। মনে ছিল দেশপ্রেম, বুকে প্রাণোচ্ছ্বল আবেগ-শক্তি ও সাহস। দেশপ্রেমের প্রকৃত মর্মটুকু স্পর্শ করেছে তাকে। ছুঁতে পারেনি লোভ-লালসা, মোহ ও অন্যায়। ১৯১৬ সালে চট্টগ্রাম শহরের ডবলমুরিং থানার কাট্টলীতে তার জন্ম।প্রথমে ভর্তি হন রেলওয়ে হাইস্কুলে। রাজনীতির প্রতি অতি আগ্রহে শুরুতেই বিমুখ হন স্কুল পাঠ থেকে। চলে যান কলকাতায়। যুক্ত হন মুসলিম লীগের রাজনীতিতে। সানি্নধ্যে আসেন খ্যাতিমান রাজনীতিক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের। ১৯৪৩ সালে প্রথম পরিচয় রাজনীতির প্রবাদপুুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে। ১৯৪৪ সালে খিদিরপুর ডকে জাহাজি শ্রমিকদের সংগঠন গড়ে তোলেন। ১৯৪৫ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবিরোধী দলে অংশ নেন বঙ্গবন্ধুরই নেতৃত্বে। পাকিস্তান হওয়ার পর চলে আসেন নারায়ণগঞ্জে। সেখানেও গড়ে তোলেন জাহাজি শ্রমিক ইউনিয়ন। ১৯৪৯ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুসলিম লীগের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের। ১৯৫০ সালে ফিরে আসেন চট্টগ্রামে। আরেক সংগঠক এমএ আজিজকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন নিজেদের সংগঠন। ১৯৫১ সালে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রামের খাদ্য আন্দোলনে। এ কারণে তাকে কারাবরণও করতে হয়। ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে তাকে ফের কারাবরণ করতে হয়। পরে জেল থেকে বের হয়ে অংশ নেন পৌর নির্বাচনে। নির্বাচিত হন কাউন্সিলর। ১৯৫৩ সালে বাঙালি পুলিশের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শুরু করেন আন্দোলন, যেতে হয় কারাগারে। ১৯৫৪ সালে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে, গড়ে ওঠে যুক্তফ্রন্ট। তখন আওয়ামী লীগের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিয়ে মুসলিগ লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করেন। যুক্তফ্রন্ট সরকারের অপসারণের পর তাকে ৯২(গ) ধারা জারি করে পাকিস্তান সরকার গ্রেফতার করে। ১৯৬৩ সালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে জহুর আহমদ চৌধুরী পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের শ্রম সম্পাদক নির্বাচিত হন। ছয় দফার পক্ষে পল্টনের এক সভায় বক্তব্য প্রদানের পর তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। ১৯৬৭ সালে জেল থেকে বের হয়ে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গণআন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগ প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য পদে তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি জয়লাভ করেন বিপুল ভোটে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চে ঢাকায় গণহত্যা শুরু করে পাকবাহিনী। তখন ধানমন্ডির ৩২ নম্বর থেকে বঙ্গবন্ধু জহুর আহমদ চৌধুরীর কাছে পাঠান ‘ডিক্লারেশন অব ওয়ার অব ইন্ডিপেন্ডেন্টস’ ঘোষণাটি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পূর্বাঞ্চলের লিবারেশন জোনের প্রধান ছিলেন তিনি। পরে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। ১৯৭৪ সালের ১ জুলাই এই ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিক ইন্তেকাল করেন। আজ তিনি বেঁচে আছেন আমাদের মাঝে তার আদর্শপূর্ণ রাজনৈতিক জীবন্ত জীবনকীর্তি নিয়ে। যা দেশ ও দেশের মানুষের কাছে শ্রদ্ধাশীল হয়ে থাকবে।