একের পর এক প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে শিক্ষামন্ত্রী সব ধরনের কোচিং...

একের পর এক প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে শিক্ষামন্ত্রী সব ধরনের কোচিং সেন্টারই অবৈধ ঘোষণা করে বসলেন।

38
SHARE
নিজস্ব প্রতিনিধি : হাবিবুর রহমান (সুজন): ক্লাস পরীক্ষায় শ্রেণি কক্ষের বাইরে টাকার বিনিময়ে স্কুল কলেজের শিক্ষকদের আলাদা কোচিং সেন্টার খোলা অবশ্য অবৈধ। অভিভাবকদের জন্য সেটা বোঝাও বটে। বিশেষ করে মাধ্যমিক আর উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি পেরোতে সন্তানদের নিয়ে এমনিতেই উদ্বিগ্ন থাকেন অবিভাবকরা। তাই ক্লাস পরীক্ষা আর ভাল স্কুল কলেজে পড়িয়েও শেষ মুহুর্তে ছোটেন কোচিং গুলোতে। আর প্রত্যক্ষ ভাবেই শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বাবা- মায়েদের কোচিংয়ে ভর্তির ব্যাপারে এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করেন । সেটা নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলা। উচ্চ মাধ্যমিকে টেস্ট পরীক্ষার আগে কোচিং সেন্টার খুলে বসলেন আমাদের কলেজের শিক্ষকরা। এক ধরনের গুজব ছড়ানো হলো যে কোচিং না করলে টেস্ট পরীক্ষায় পাশ করানো হবে না। তাছাড়া শিক্ষকরাও ঐ কোচিংয়ের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন। এগুলো খুব ছোট বিষয়। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি অবশ্যই বড় বিষয়। কারণ ছাপোষা পরিবারগুলোর জন্য কোচিং একটি বোঝা। তবে সমস্যা কেবল এক পাক্ষিকভাবে দেখলে চলে না। কারণ শিক্ষকদের সমাজে যেভাবে চলা ফেরা করতে হয় সেই সাথে তাদের মাসিক বেতন কতটা সঙ্গতিপূর্ণ সেটাও দেখতে হবে। আর এমপিওভুক্তি না থাকলে তো কথাই নেই। কদিন আগে আমার এক শ্রদ্ধেয় স্কুল শিক্ষক ফোন দিয়ে বললেন প্রেসক্লাবের সামনে তাঁদের মানববন্ধনের নিউজ যেন কাভার করি। আমার সেই শিক্ষক স্কুলে যোগদান করেন ২০০১ সালে । তিনি ক্লাস সিক্স থেকে আমাকে পড়িয়েছেন। অথচ তিনি তাঁর শিক্ষকতার জন্য একটি টাকাও বেতন পাননি। সেই বেতনের জন্যই প্রেসক্লাবে ক’দিন আগে এমপিওভুক্তি নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। সুতরাং সেটিও অবশ্যই ভাববার বিষয়।

এখন যদি বলি সব ধরনের কোচিং সেন্টার অবৈধ নয়! যেমনঃ  বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতির কোচিং সেন্টার কিংবা ভাষা শিক্ষার কোচিং সেন্টার যেমন ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ কোচিং। যদি সবই অবৈধ হতো তাহলে সরকার অনুমোদিত কোচিং সেন্টার রয়েছে কেন? তবে কেবল কোচিং সেন্টারকেই নির্ভর করতে বলছি না। কিন্তু তার একটা সুনিদিষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। তাছাড়া পুরো সিস্টেমে গলদ নিয়ে মাঝখানে একটা কিছুকে অবৈধ ঘোষণা করলে চলে না। এখন সরকারি জব বলতে সবচেয়ে লুক্রেটিভ বলা যায় বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস কমিশনকে। সেক্ষেত্রে আরো ১০ বা ১৫ বছর আগে যেসব পড়ে এসেছি সেগুলো আবার নতুন করে খুলতে হবে। স্বাভাবিকভাবে ১৫ বছর আগের বিষয় যদি মাথায় নিয়ে ঘুরতে হয় তবে ৫-৬ বছর ধরে কেন গ্রাজুয়েশন করতে হবে? এটা কোন সিস্টেম হতে পারে না। উন্নত দেশগুলোতে কি দেখা যায়……গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর তার যোগ্যতা অনুসারে সে সেই গ্রেডের চাকরি পাবে। কিন্তু আমরা পুরো শিক্ষাজীবন ধরে মানবিক বিভাগে পড়ে এলাম, চাকরির জন্য এখন কেন উচ্চতর গণিত করতে হবে? একজন মানুষকেই কেন সব বিষয়ে পারদর্শী হতে হবে, এতোসব জানতে হবে? এসব মুখস্ত বিদ্যার কাজ কি? আমি বলি বিসিএস কোচিং কিংবা যারা উচ্চতর শিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যেতে কোচিং করছে সেই পদ্ধতি অবৈধ হলে শিক্ষা ব্যবস্থার এই পুরো পদ্ধতিই অবৈধ। এখন একটা ঘোষণা দিয়েই সরকারের দায়িত্বশীল পদে থাকা কেউ দায় এড়াতে চাইলে হয় না। কারণ কোচিং গুলোতে এরই মধ্যে যেসব শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়ে গেছে তাদের জন্যেও এটি বড় ধরনের ক্ষতি। তাই শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ভাবতে হলে অবশ্যই এর রুট থেকে ভাবতে হবে, প্রয়োজনে নীতি নির্ধারকরা বসে এ বিষয়ে নীতিমালাও তৈরী করতে পারেন। না হলে ঝি-কে মেরে বউকে শেখানোর এমন প্রবণতা গ্রহণযোগ্য হবে না।