মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঐতিহাসিক পাহাড়তলী শহীদ শাজাহান মাঠ সংলগ্ন নব নির্মিত...

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঐতিহাসিক পাহাড়তলী শহীদ শাজাহান মাঠ সংলগ্ন নব নির্মিত শহীদ মিনার ও মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণে দিন ব্যাপি বর্ণাঢ্য আয়োজন।

71
SHARE

নিজস্ব প্রতিনিধি : সুমন ভট্টাচার্য:মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দিন ব্যাপি বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঐতিহাসিক পাহাড়তলী শহীদ শাজাহান মাঠ সংলগ্ন নব নির্মিত শহীদ মিনার ও মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণে যথাযত মর্যাদা স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হলো। ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বাঙালির শৃঙ্খল মুক্তির দিন। বিশ্বের বুকে লাল-সবুজের পতাকা ওড়ানোর দিন। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয়েছিল। বিশ্বের বুকে স্বাধীন অস্তিত্ব ঘোষণা করেছিল বীর বাঙালি। ইতিহাসের পৃষ্ঠা রক্তে রাঙিয়ে, আত্মত্যাগের অতুলনীয় দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে একাত্তরের এই দিন যে সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এ দেশের মানুষ, দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন তার চূড়ান্ত পরিণতি। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের সূচনার সেই গৌরব ও অহঙ্কারের দিন আজ। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আজ সকাল ৮টায় পাহাড়তলি মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণে জাতীয় শিশু-কিশোর সমাবেশে প্রধান অতিথি জনাব ডা: আফসারুল আমিন (এম পি) উপস্থিতিতে সারাদেশে ও বিদেশে একযোগে শুদ্ধসুরে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়েছে। সবাইকে স্ব স্ব অবস্থানে থেকে এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য কাউন্সিলর মো: হোসেন হিরন ভাই থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

দিবসটি পালনে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। সকল সরকারি-আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনা আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। দিবসের তাৎপর্য্য তুলে ধরা হল। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়তলি মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা হয়েছে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জনাব ডা: আফসারুল আমিন এম পি ও কাউন্সিলর মো:হোসেন হিরন পাহাড়তলি মুক্তমঞ্চে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।এরপর এলাকার বিভিন্ন নেতাকর্মীরা হিরন ভাইয়ের নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধারা, কূটনীতিকগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণ পাহাড়তলি মুক্তমঞ্চে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

সারাদেশে গণহত্যা, ভয়াল ‘কালরাত্রি’র পোড়া কাঠ, লাশ আর জননীর কান্না নিয়ে রক্তে রাঙা নতুন সূর্য উঠেছিল ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ। ভীতবিহ্বল মানুষ দেখল লাশপোড়া ভোর। সারি সারি স্বজনের মৃতদেহ। আকাশে কুন্ডলী পাকিয়ে উঠছে ধোঁয়া। পুড়ছে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র আঁকা লাল সবুজ পতাকা। জ্বলছে শাড়ি, খুকুর ফ্রক। চোখে জল। বুকে আগুন। জ্বলে উঠল মুক্তিকামী মানুষের চোখ, গড়ল প্রতিরোধ। মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে ‘জয় বাংলা’ তীব্র স্লোগান তুলে ট্যাঙ্কের সামনে এগিয়ে দিল সাহসী বুক। আজ থেকে ৪৭ বছর আগের ঠিক এমনি এক ভোররাতে পাক বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। শত্রুসেনাদের বিতাড়িত করতে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করার বঙ্গবন্ধুর ডাকে জীবনপণ সশস্ত্র লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বীর বাঙালি। ঘোরতর ওই অমানিশা ভেদ করেই দেশের আকাশে উদিত হয় স্বাধীনতার চিরভাস্বর সূর্য। বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই শুরু হয়েছিল একাত্তরের আজকের এই দিনে। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত মহান স্বাধীনতার ৪৭তম বার্ষিকী। এরপর চিত্রাংকন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ করা হল।