প্রশ্নফাঁসের ১২ কারণ রোধে ১৫ উদ্যোগ

প্রশ্নফাঁসের ১২ কারণ রোধে ১৫ উদ্যোগ

70
SHARE

নিউজ ডেস্ক:প্রশ্নপত্র ফাঁসের পেছনে সম্ভাব্য ১২টি কারণ চিহ্নিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এগুলোকে প্রশ্নফাঁসের ‘ঝুঁকি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এসব ঝুঁকি এড়িয়ে প্রশ্নফাঁস রোধ করতে ১৫টি উদ্যোগও গ্রহণ করেছে মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ বিষয়টি প্রকাশ করেছেন।
সোমবার সকালে রাজশাহী বিভাগের সব জেলার প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক উপস্থাপনায় তিনি এই সাম্ভাব্য কারণ ও গৃহীত উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন।
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এই মতবিনিময় করেন তিনি। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সম্মেলনকক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সহায়তায় বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় এর আয়োজন করে।
অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ প্রশ্নফাঁসের যে ঝুঁকিগুলো তুলে ধরেন তার মধ্যে রয়েছে- বিজি প্রেসে বিভিন্ন ধাপে ২৫০ জন ব্যক্তির প্রশ্ন দেখার সুযোগ, নিরাপত্তা হেফাজত থেকে অগ্রিম প্রশ্ন নেয়া, প্রশ্ন নেয়ার সময় ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতি, নির্দিষ্ট সময়ের আগে প্যাকেট খোলা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার ও বিশ্বাসভঙ্গ।
এছাড়া প্যাকেট খোলার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত তিন কর্মকর্তার স্বাক্ষর গ্রহণ না করা, মুঠোফোন ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার, দায়িত্বশীলদের দায়িত্বহীনতা, ফাঁসকারীদের শাস্তি না হওয়া এবং পরীক্ষা ও আইসিটি সংশ্লিষ্টদের আইনের কঠোর প্রয়োগ না করা প্রশ্নফাঁসের জন্য ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে মন্ত্রণালয়।
জাবেদ আহমেদ জানান, ঝুঁকিগুলো এড়িয়ে প্রশ্নফাঁস রোধ করতে তারা ১৫টি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে- প্রশ্ন সেটিং, মডারেটর ও লটারিতে সতর্কতা; বিজি প্রেসের সংশ্লিষ্টদের গোয়েন্দা নজরদারিতে আনা, বিজি প্রেস থেকে প্রশ্ন জেলা ট্রেজারিতে পাঠানো, সেটভিত্তিক একই বিষয়ের প্রশ্ন একটি খামে রাখা, ট্রেজারি থেকে প্রশ্ন ডিসির তত্ত্বাবধানে ইউএনও এবং ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গ্রহণ।
এছাড়া পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের আসন গ্রহণ, নিরাপত্তা হেফাজত থেকে ইউএনও, ম্যাজিস্ট্রেট অথবা ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে কেন্দ্র সচিবের প্রশ্ন গ্রহণ, ২৫ মিনিট আগে সেট ঘোষণা, পুলিশ পাহারায় প্রশ্ন পরিবহন, ট্যাগ অফিসার, কেন্দ্র সচিব ও পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়কের উপস্থিতিতে প্যাকেট খোলা এবং কক্ষওয়ারি প্রশ্ন বণ্টন।
জাবেদ আহমেদ বলেন, প্রশ্নফাঁস রোধে অন্য উদ্যোগগুলোর পাশাপাশি নিরাপত্তা হেফাজত থেকে প্রশ্ন গ্রহণ থেকে শুরু করে পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁস বন্ধে বিটিসিএল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর বাইরে প্রশ্ন ফাঁসকারীদের শাস্তি নিশ্চিত এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করছে মন্ত্রণালয়। এই ১৫টি উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে প্রশ্নফাঁস বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তাই জাতীয় স্বার্থে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ।
তিনি বলেন, সবাই বলে- তারা প্রশ্নফাঁস রোধ করতে পারবেন। শুধু পারবেন না মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। প্রশ্নফাঁসে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জড়িত আছেন বলে মানুষ মনে করে। কিন্তু প্রশ্নফাঁস বন্ধে মন্ত্রণালয় প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে অনেক জায়গায় এখনও শুধু বিশ্বাসের ওপর প্রশ্ন ছেড়ে দিতে হয়।