আজ নেপাল দুর্ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু

আজ নেপাল দুর্ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু

35
SHARE

নিউজ ডেস্ক: ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হচ্ছে আজ। বিধ্বস্ত ড্যাশ-৮ কিউ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোম্বারডিয়ার প্রতিনিধি দল, নেপাল সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ, বিশেষায়িত সংস্থা এয়ারক্রাফট এক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন গ্রুপ অব বাংলাদেশ (এএআইজি-বিডি) এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে এ তদন্ত শুরু করবে। ঢাকায় সিভিল এভিয়েশনের পরিচালক উইং কমান্ডার চৌধুুরী মোহাম্মদ জিয়াউল কবীর জানান-দুর্ঘটনার তদন্ত দলে যোগ দিতে বেবিচকের বিশেষায়িত সংস্থা এএআইজি-বিডি’র একটি প্রতিনিধি দল আজ (রবিবার)-কাঠমান্ডু যাচ্ছে। প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্বে থাকবেন এএআইজি-বিডি প্রধান ক্যাপটেন সালাহ্উদ্দিন। এর আগে গত মঙ্গলবার কাঠমান্ডু এসেছে দুর্ঘটনা কবলিত ইউএস-বাংলার ড্যাশ-৮-কিউ-৪০০ উড়োজাহাজের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কানাডার মন্ট্রিয়ল-ভিত্তিক বোম্বারডিয়ার’র দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল। তবে কবে নাগাদ এ তদন্ত শেষ হবে তা নিয়ে ঢাকা ও নেপাল পরষ্পরবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে। নেপাল সিভিল এভিয়েশন বলছে, ইচ্ছে করলে একমাসেও তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব। অন্যদিকে ঢাকায় সিভিল এভিয়েশন বলছে, এত কম সময়ে এটা সম্ভব নয়। কম করে হলেও তিন থেকে ৬ মাস লেগে যেতে পারে। এ দিকে শনিবার রুবায়েত নামের আরও একজন আহত যাত্রীকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বেলা ৩টা ৫ মিনিটে রুবায়েতকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিজি-০৭২ ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বিমানবন্দর থেকে তাকে বহনকারী এ্যাম্বুলেন্সটি সরাসরি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেয়। বেলা ৪টার দিকে রুবায়েতকে নিয়ে ঢামেক হাসপাতালে পৌঁছায় এ্যাম্বুলেন্স।

অন্যদিকে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশীসহ মোট ২২ জনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় তাদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ত্রিভুবন ইউনিভারসিটি টিচার্স হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের ডাঃ রিজেন শ্রেষ্ঠা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বাকি মরদেহ শনাক্ত করার কাজ খুব শীঘ্রই শেষ করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, এখনও যাদের মরদেহ শনাক্ত করা যায়নি তাদের পরিবারের সদস্যদের পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানান হবে। তাদের ডিএনএ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শনাক্ত করতে হবে। শনিবার দুপুরে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের হোটেলে ফিরে যেতে অনুরোধ করা হয়। কারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও কিছু সময় দরকার। যাদের মরদেহ শনাক্ত করা গেছে, তাদের স্বজনদের বিকেল ৫টায় ফোন করে ডাকা হয়। রাতে গণমাধ্যমের কাছে এ তালিকা দেয়া হয়।

নেপালে অবস্থানরত বাংলাদেশী চিকিৎসক দল জানিয়েছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য এ ঘটনায় আহত যাত্রীদের মধ্যে ইমরানা কবীরকে সিঙ্গাপুর এবং ইয়াকুব আলীকে দিল্লী নেয়া হবে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন এ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের চিকিৎসক ডাঃ হোসাইন ইমাম জানান-এয়ার এ্যাম্বুলেন্স পাওয়া গেলেই ইমরানা ও ইয়াকুবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। তবে ইমরানা কবীর ও ইয়াকুব আলী এখনও শঙ্কামুক্ত নন বলেও জানিয়ে রাখলেন এই চিকিৎসক। ইমরানার বাবা আর কাঠমান্ডু মেডিক্যাল কলেজের মেডিক্যাল বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করেছেন তারা। তাকে এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠান হবে। নরভিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইয়াকুব আলী মাথায় চোট পেয়েছেন। ডাঃ হোসাইন ইমামের বর্ণনায়, তার অবস্থা অনেকখানি স্থিতিশীল। কিন্তু যেহেতু মাথায় আঘাত পেয়েছেন, তাই তাকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে দিল্লীতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

ডাঃ হোসাইন ইমাম সাংবাদিকদের বলেছেন-আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এখানে এসেছি। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের দেখলাম। আমরা যেদিন এসেছিলাম ওইদিন বিকালে তাদের একজন দেশে ফিরে গেছেন। শুক্রবার আহত আরও তিন জন নেপাল ছেড়েছেন। বর্তমানে কাঠমান্ডু মেডিক্যাল কলেজে আছেন আহত চার বাংলাদেশী। বাংলাদেশের চিকিৎসক প্রতিনিধি দলের এই সদস্য নিশ্চিত করেছেন, আমরা ইতোমধ্যে তিন জনকে বাছাই করেছি, যারা সাধারণ ফ্লাইটে মেডিক্যাল ব্যাকআপে বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন। তাদের মধ্যে কবীর হোসেন ও শাহীন ব্যাপারী অগ্নিদগ্ধ। স্পেশাল মেডিক্যাল তত্ত্বাবধানে রবিবার তারা বাংলাদেশে ফিরে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি হবেন।

গত ১২ মার্চ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের আগ মুহূর্তে পাশের একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয়। ৬৭ যাত্রী ও চার ক্রুসহ ৭১ জন আরোহী ছিলেন ওই ফ্লাইটে।

নেপালীদের আল্টিমেটাম ॥ নেপালের হাসপাতালে মরদেহ দেখানসহ বিভিন্ন দাবিতে তিন ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন নিহত নেপালীদের স্বজনরা। শনিবার দুপুরের দিকে নিহতদের স্বজনরা কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি টিচিং হসপিটালের মর্গের সামনে জড়ো হয়ে এ আল্টিমেটাম দেন। ‘নিহতদের পরিবার’ লেখা একটি ব্যানারে দাবি দাওয়া তুলে ধরেছেন। ব্যানারটিতে নিহতদের স্বজনরা স্বাক্ষরও করেছেন। তারা শনিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে নিহত যাত্রীদের মধ্যে যাদের পরিচয় দেয়া সম্ভব তাদের তালিকা প্রকাশ করার দাবি জানান। এরই মধ্যে ত্রিভুবন ইউনিভারসিটি টিচার্স হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের ডাঃ রিজেন শ্রেষ্ঠা জানান, হাসপাতালে অবস্থান করা আত্মীয়-স্বজনদের হোটেলে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। তালিকা প্রকাশের পর তাদের ফোনে ডাকা হবে। মৃতদেহ শনাক্ত করার কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটির ফরেনসিক বিভাগের প্রমোদ প্রমোদ শ্রেষ্ঠা। যেসব মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হবে না, এগুলোর ডিএনএ প্রোফাইলিং করা হবে। প্রোফাইলিংয়ের জন্য এসব মৃতদেহের দাঁত, চুল, নখ বা পোশাকের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু নিহত নেপালীদের স্বজনরা এ আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে হাসপাতালের সামনেই অবস্থান করছেন। হাসপাতালের পাশেই দাঙ্গা পুলিশদেরও অবস্থান নিতে দেখা গেছে।