নেপালে বিমান দুর্ঘটনা নিহতদের পরিবার পাবেন ৫০ হাজার ডলার  

নেপালে বিমান দুর্ঘটনা নিহতদের পরিবার পাবেন ৫০ হাজার ডলার  

38
SHARE

নিউজ ডেস্ক:নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেক পরিবার পাবেন ৫০ হাজার ডলার বা ৪১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এছাড়া আহতদের দেওয়া হবে চিকিৎসা সেবাসহ নগদ অর্থ।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ গণমাধ্যমকে জানান, ক্ষতিপূরণের এই টাকা পরিশোধের প্রক্রিয়া এক মাসের মধ্যেই শুরু হবে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বীমাকারী প্রতিষ্ঠান সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স কর্তৃপক্ষও একই তথ্য জানিয়েছে।

ইমরান আসিফ বলেন, ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) বিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নিহত পরিবার পাবেন কমপক্ষে ৫০ হাজার ইউএস ডলার। একই নিয়ম অনুযায়ী আহতদেরও ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনায় দেওয়া হবে ক্ষতিপূরণ। সেক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনায় তাদের অর্থ কম-বেশি হবে।

এদিকে শুক্রবার নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় আহত মেহেদী হাসান, কামরুন্নাহার স্বর্ণা ও আলমুন নাহার এ্যানি দেশে ফিরেছেন। বিকেল ৪টার দিকে তাদের নিয়ে বিমান বাংলাদেশের অ্যাম্বুলেন্স ঢাকা মেডিকেলের উদ্দেশে রওনা দেয়। এর আগে বৃহস্পতিবার দেশে ফেরেন শেহেরিন আহমেদ। তিনিও বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের গ্রহণ করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামালসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পরে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, দুর্ঘটনা যে কারণেই হোক, সেটা মুখ্য বিষয় নয়। এখন আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে যারা নিহত হয়েছেন তাদের মরদেহ ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। এ ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিতে যা যা করণীয় সরকারের পক্ষ থেকে সব করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিএস-২১১ দুপুর ২টা ২০ মিনিটে নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশের একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় ২৬ বাংলাদেশিসহ ৫১ যাত্রীর প্রাণহানি ঘটে। বাকিদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতলে ভর্তি করা হয়।

বিমানটিতে মোট ৬৭ যাত্রীর মধ্যে বাংলাদেশি ৩২ জন, নেপালি ৩৩ জন, একজন মালদ্বীপের ও একজন চীনের নাগরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে পুরুষ যাত্রীর সংখ্যা ছিল ৩৭, নারী ২৮ ও দু’জন শিশু ছিল।