আইএমএফের আবাস বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার

আইএমএফের আবাস বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার

67
SHARE

নিউজ ডেস্ক :আগামী বছর বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হওয়ার আভাস দিয়েছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তাও জ্যাং। বছরটিতে দেশের মুদ্রাস্ফীতিও ব্যাপকভাবে স্থিতিশীল পর্যায়ে আসবে বলে মত দিয়েছেন এই অর্থনীতিবিদ।

এ সপ্তাহেই ভারত ও ভুটান সফর করবেন তাও জ্যাং। তার এ সফরসূচিতে বাংলাদেশের নাম না থাকলেও সম্প্রতি ঢাকা সফর শেষ করেছে আইএমএফ কর্মীদের একটি দল।

তাও জ্যাং বলেন, ‘সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আইএমএফ টিম এবং বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। একইসঙ্গে মাঝারি মেয়াদে শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতের বিষয়ে কথা হয়েছে।’

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের নিদারুণ অভিজ্ঞতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অন্যদের কাছে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করছি সংকটের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকার তার সীমান্ত খোলা রেখেছে। তারা মানবিক সাহায্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে শরণার্থীদের সহায়তা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই উদারতার প্রশংসা করেছে।’

তাও জ্যাং বলেন, ‘আমি এটা অনুধাবন করছি- খাদ্য, স্বাস্থ্য, আশ্রয়, পানি ও স্যানিটেশনের মতো ক্ষেত্রগুলোতে দাতাদের সহায়তা নিয়েই তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটানো হয়েছে।’

আইএমএফ কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ সফর শেষে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দৃঢ় মুদ্রানীতি ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক শৃঙ্খলার অবদান রয়েছে।

বাংলাদেশ সফরকারী আইএমএফ প্রতিনিধি দলের প্রধান দায়সাকু কিহারা এক বিবৃতিতে বলেছেন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা দ্বারা চালিত সত্যিকারের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২০১৭ অর্থবছরে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাত শতাংশ অতিক্রম করেছে। মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা বাড়লেও সেটা হচ্ছে মূলত খাদ্যদ্রব্যের উচ্চমূল্যের কারণে। নিম্ন রেমিটেন্স এবং অভোগ্য পণ্য ও খাদ্যদ্রব্যের উচ্চ আমদানি পরিস্থিতিকে ঘাটতির দিকে নিয়ে গেছে। তবে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মক্ষমতা বজায় রাখার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেন দায়সাকু কিহারা।

দেশের উন্নয়নের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর প্রচেষ্টায় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অবকাঠামোগত বিনিয়োগ এবং সামাজিক নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন আইএমএফের এই কর্মকর্তা। একইসঙ্গে আর্থিক সেক্টরকে আরও দক্ষ করে তুলতে শক্তিশালী শাসনব্যবস্থা ও ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও বাড়ানোর কথা বলেন তিনি।

দায়সাকু কিহারার মতে, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ অসাধারণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। এতে দারিদ্র্যের হার কমেছে। তবে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

তিনি বলেন, সমাজে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পরিমাণ প্রশংসনীয়। কর্তৃপক্ষকে ব্যাংকিং খাতে আইনগত ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে হবে। আসন্ন আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল বাস্তবায়ন চালিয়ে যেতে হবে।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত দায়সাকু কিহারার নেতৃত্বে আইএমএফের প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশ সফর করে। সফরে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রতিনিধি দলটির সদস্যরা। এ সময় তারা দেশের ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ কমাতে আইনি সংস্কারের তাগিদ দেন। ব্যাংকিং খাতের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধে সুশাসন, জবাবদিহি, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে (বাংলাদেশ ব্যাংক) আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

বৈদেশিক লেনদেনে ভারসাম্য রক্ষায় আইএমএফ ২০১১ সালে বর্ধিত ঋণ সহায়তা (ইসিএফ) কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে ৯৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার দেয়। এ ঋণ কর্মসূচির সফল সমাপ্তি হয়েছে সম্প্রতি। ওই কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে বেশ কিছু শর্ত দিয়েছিল সংস্থাটি। সেসব শর্ত যাচাইয়ে আইএমএফের টিমটি বাংলাদেশ সফর করে।