বৈশাখী টিভির নিজস্ব প্রতিবেদক ফয়সালের মৃত্যুতে সাংবাদিক নেতাদের শোক

বৈশাখী টিভির নিজস্ব প্রতিবেদক ফয়সালের মৃত্যুতে সাংবাদিক নেতাদের শোক

60
SHARE

নিউজ ডেস্ক: নেপালের কাঠমান্ডুতে বিমান দুর্ঘটনায় বৈশাখী টেলিভিশনের নিজস্ব প্রতিবেদক আহমেদ ফয়সালের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)।

সেই সঙ্গে সাংবাদিক আহমেদ ফয়সালসহ কাঠমান্ডুর বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে ১৫ মার্চ বৃহস্পতিবার কালো ব্যাজ ধারণ ও শোক র‌্যালির কর্মসূচি পালন করবে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় (ডিআরইউ চত্বর থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব) এই শোক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে।

১৪ মার্চ, বুধবার পৃথক বিবৃতিতে এই শোক প্রকাশ করা হয় এবং আগামীকাল কালো ব্যাজ ধারণ ও শোক র‌্যালির কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

সাংবাদিক আহমেদ ফয়সালের মৃত্যুর সংবাদে মা সামসুন্নাহার মূর্ছা যাচ্ছেন বারবার। ছবি: প্রিয়.কম

আর এদিকে ফয়সালের অকালমৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা পৌরসভার দক্ষিণ ডামুড্যা গ্রামে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে আকাশ-বাতাস। ছেলের মৃত্যুর সংবাদে মা সামসুন্নাহার বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বাবা সামসুদ্দিন সরদার বিলাপ করে বেড়াচ্ছেন ‘আয় বাবা, আমার বুকে ফিরে আয়।’

এমন একটি মর্মস্পর্শী আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়েছে শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ ডামুড্যা গ্রামে। ১৩ মার্চ, সোমবার নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলা বিমানের যাত্রী ছিলেন আহমেদ ফয়সাল।

আহমেদ ফয়সালের বাবা সামসুদ্দিন সরদার বিলাপ করছেন ‘আয় বাবা, আমার বুকে ফিরে আয়’।

আহমেদ ফয়সালের পরিবার সূত্রে জানা যায়, আহমেদ ফয়সাল ২০০৪ সালে ডামুড্যা মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। তারপর ঢাকা তিতুমীর কলেজে এইচএসসি এবং স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স সম্পন্ন করেন। পরে তিনি বৈশাখী টেলিভিশনে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে যোগদান করেন। আহমেদ ফয়সাল তিন ভাই এবং দুই বোনের মধ্যে সবার বড়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অবিবাহিত। তিনি বৈশাখী টেলিভিশনে প্রধানমন্ত্রীর নিউজ কাভারেজ দিতেন।

নেপালে ঘুরতে যাওয়ার কথা কাউকে বলেননি ফয়সাল। সোমবার বেলা ১১টায় ঢাকার বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বড় বোন শিউলীকে বলেছিলেন ঢাকার বাইরে যাচ্ছি।

নিহতের খালাতো ভাই মো. জাকির হোসেন সুমনের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, পাঁচ দিনের ছুটি নিয়ে ফয়সাল নেপালে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এর মধ্যেই বিমান বিধ্বস্ত হয়। এ খবর জানাজানি হলে সোমবার রাতে ডামুড্যা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম খবর নেন এবং আহমেদ ফয়সালের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান। এ ঘটনায় ফয়সালের বাড়িতে ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ফয়সালের বাবা সামসুদ্দিন সরদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছেলে যে নেপাল গিয়েছে, আমরা কেউ জানতাম না। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার অনেক পরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাহাদুর বেপারী ফোন দিয়ে ফয়সাল কোথায় জানতে চান। তখন আমি আমার বড় মেয়ে শিউলীকে ফোন দেই। তখন বড় মেয়ে শিউলী আমাকে জানায়, ফয়সাল ঢাকার বাইরে যাওয়ার কথা বলে সকালে বাসা থেকে বের হয়েছে। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। রাতে আমরা নিশ্চিত হই নেপালের বিধ্বস্ত বিমানে ফয়সাল ছিল।’

১৩ মার্চ, সোমবার ইউএস-বাংলার বিমানটি ঢাকা থেকে ৭১ জন আরোহী নিয়ে নেপালের উদ্দেশে যাত্রা করে। ওই দিন নেপালের স্থানীয় সময় বেলা ২টা ২০ মিনিটে ৪ ক্রু ও ৬৭ আরোহী নিয়ে বিমানটি কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশের মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এতে অন্তত ৫০ জনের প্রাণহানি ঘটে। আর ওই নিহত যাত্রীদের একজন হলেন সাংবাদিক আহমেদ ফয়সাল।