বাদাম বিক্রি করে অসাধ্যকে সাধন করার চেষ্টা। 

বাদাম বিক্রি করে অসাধ্যকে সাধন করার চেষ্টা। 

146
SHARE

নিজস্ব প্রতিনিধি : সুমন ভট্টাচার্য: কথায় আছে প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও প্রচেষ্টা থাকলে অনেক অসাধ্যকেও সাধিত করতে পারে মানুষ, যা পরবর্তী প্রজন্মকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে। যুগে যুগে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ এমনি কিছু কঠিন কাজকে বাস্তবে রুপান্তরিত করেছেন যা দেশ ও বিদেশে আলোচনার সৃষ্টি করে। তেমনি এক অসাধারণ কীর্তি গড়তে চলেছেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগন্জ পৌর শহরের বাদাম বিক্রেতা মো:রফিকুল ইসলাম।রফিকুল ইসলাম বাদাম বিক্রির টাকা দিয়ে় হজ্বে যাবেন। তিনি থাকেন পাহাড়তলি ওভার ব্রিজের নিচে। সেগুন বাগানের ব্যস্ত সড়কটিতে চলাচলকারীদের নিয়মিত চোখে পরে মো:রফিকুল ইসলামের বাদাম বিক্রি করার চিত্র। তিনি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রাস্তার পাশে ভ্যানে করে বাদাম বিক্রি করে।আজ শনিবার দুপুরে বাদাম খাওয়ার ফাঁকে হঠাৎ তাঁর কাছ থেকে জানা যায়, পবিত্র হজ্বে যাওয়ার ইচ্ছে রফিকুল ইসলাম ।সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সেগুন বাগানের মোড়ে বাদাম বিক্রি করেন রফিকুল ইসলাম।এটাই তার উপার্জনের একমাত্র পথ। উল্লেখ্য, রফিকুল ইসলাম তার হজ্বে যাওয়া বিষয়ে কারো কাছে একটি পয়সার জন্যেও হাত পাতবেননা।
রফিকুল ইসলাম উপজেলার ঈশ্বরগন্জ গ্রামের আকবর হোসেনের ছেলে। তিনি জানান, ২৫ বছর ধরে বাদাম বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন। তার দুই ছেলে এক মেয়ে সন্তান আছে। স্ত্রীকে নিয়ে রফিকুল ইসলামের বর্তমান সংসার। তিনি আরও জানান, বাদাম বিক্রি করে প্রতিদিন গড়ে ৪০০/৫০০ টাকা আয় হয়। এই স্বল্প আয় থেকে দিনে দিনে হজ্বে যাওয়ার জন্য টাকা জমিয়েছেন। হজ্বে গিয়ে নিজের পরিবার ও দেশবাসীর জন্য দোয়া করতে চান তিনি।নিয়মিত বাদাম ক্রেতা এলাকার বাসিন্দা আল আমিন (বিটিসিএল) জানান, একদিন এই বিক্রেতার কাছ থেকে জানতে পারি যে তিনি হজ্ব গমনের উদ্দেশ্যে বাদাম বিক্রি করে টাকা জমাচ্ছেন, সেদিন থেকেই আমি নিয়মিত তার কাছ থেকেই বাদাম ক্রয় করি। কখনও তাকে না পেলে ফোন করে জিজ্ঞাসা করে তার কাছে পৌছে বাদাম ক্রয় করি। আমি মনে করি তার প্রচেষ্টা সমাজের অনেক মানুষকে হজ্বে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করবে।