পতেঙ্গার ঐতিহ্যে মেলা ও নাগরদোলা।

পতেঙ্গার ঐতিহ্যে মেলা ও নাগরদোলা।

67
SHARE

নিজস্ব প্রতিনিধি : মোঃআনিছুর রহমান :
পতেঙ্গা চট্টগ্রাম শহরের সর্ব দক্ষিণের অঞ্চল, এটি ৪০ ও ৪১ নং দুটি সম্পূর্ণ ওয়ার্ড এবং ৩৯ নং আংশিক ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। মূলত পতেঙ্গা চট্টগ্রাম সিটির আওতাভুক্ত হলেও এখানে এখনো রয়েছে গ্রামীণ পরিবেশের ছোঁয়া। শহুরে কলকারখানা, ডিপো, বিমানবন্দর ও দালানকোঠার পাশাপাশি পতেঙ্গায় এখনো রয়েছে সাগর, নদী, খাল, বিল, ডোবা ও ফসলের মাঠসহ নানান গ্রামীণ রূপ । গ্রামীণ বৈচিত্র্যময় পতেঙ্গায় মাঠের পর মাঠ জুড়ে এখনো হয় ফসলি আবাদ, বড় বড় দীঘিতে হয় মাছের চাষ,পতেঙ্গায় আরও রয়েছে গবাদি পশুর খামার। তবে উন্নয়ন ও পরিবর্তনের ধারায় ক্রমশই স্মৃতির মাঝে তলিয়ে যাচ্ছে পতেঙ্গার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতি। তবে যুগযুগ ধরে পতেঙ্গায় এখনো টিকে আছে মেলা আর নাগরদোলা।প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি এলেই মেলার উৎসবে মেতে উঠে পাড়া। ফেব্রুয়ারীর ৫ তারিখে নিজামউদ্দিন আউলিয়া মাজার প্রাঙ্গণে বসে পতেঙ্গার সর্ববৃহৎ মেলা, এরপর ৮ ই ফেব্রুয়ারি হাফেজ মোবারক আলী শাহ মাজারের মেলা, এবং ২৫ শে ফেব্রুয়ারী উৎসবমুখর হয়ে উঠে ডেইলপাড়া ও চৌধুরী পাড়ার মাঝামাঝি অবস্থিত নিয়ামাত আলী শাহ মাজার প্রাঙ্গণের মেলা। প্রতিটি মেলার উপলক্ষ্যই সৃষ্টি হয় মাজারের ওরশকে কেন্দ্র করে। এছারাও প্রতিবছর ১ লা বৈশাখে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ বড় পরিসরে একটি মেলা আয়োজিত হয়। এটিও সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকে এবং আনন্দ উৎসবে ঘটে পতেঙ্গার মানুষের মিলনমেলা।

মেলাকে কেন্দ্র করে আশেপাশের এলাকাগুলোতে হতে থাকে আত্মীয় স্বজনের ভিড়। প্রতিটি ঘরে ঘরে হয় মেহমানে ভরপুর। দূরদূরান্ত থেকে স্বপরিবারে বাপের বাড়িতে ছুটে আসে এলাকা থেকে শশুর বাড়িতে পাড়ি জমানো মেয়েরা। দূরদূরান্তে কর্মব্যস্ত মানুষেরাও শতো ব্যস্ততা ফেলে ছুটে আসে নিজ বাড়িতে আর সামিল হয় মেলার উৎসবে।

মেলা এলেই দর্শনার্থীদের হৃদয়ে দোলা দেয় শৈশবের মেলা কেন্দ্রিক শতো স্মৃতি, দেখা হয় স্কুল জীবনের বন্ধুবান্ধবদের সাথে,দেখা হয় আত্মীয়ের সাথে আত্মীয়ের, হঠাৎ হঠাৎ চোখের সামনে পরে কোন এক সময়ে হৃদয়ে ঠাঁই নেওয়া প্রকাশিত – অপ্রকাশিত পুরনো মানুষগুলোর মুখ। আঁড়চোখে হাসি দৃষ্টি বিনিময় আনন্দের কথোপকথন হয়, দেখা মেলে দীর্ঘদিনের অদেখা প্রিয়জনের। এভাবেই মেলাগুলো হয়ে উঠে আনন্দময়।
মেলা উপলক্ষে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসে খুচরা ব্যবসায়ীরা, কর্তৃপক্ষের নিকট হতে স্টল বরাদ্ধ নেন, এরপর দর্শনার্থীদের রুচিসম্মত পন্যের ব্যবসায়ে রত হন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য শিশুদের খেলনা, ঘরের ছোটখাটো তৈজসপত্র এবং খাবারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য চনামনার ট্যাং।

কেনাকাটার পাশাপাশি প্রচুর ভিড় লেগে থাকে নাগরদোলায়, শিশু থেকে বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভিড় লেগেই থাকে নিজেকে একটু দুলিয়ে নিতে। নানান রকম বাঁশির আওয়াজ ও নাগরদোলার আওয়াজে মেলায় বিরাজ করে উৎসবমুখর আনন্দের আমেজ।

নানান স্মৃতির জন্ম দিয়ে অবশেষে মেলার শেষ হয়। আবার একটি বছরের অপেক্ষা, এর মাঝে হয়তো মেলায় অংশ নেওয়া অনেক মুখ চলে যায় না ফেরার দেশে পরের বছর শুধু স্মৃতির মাঝে বেঁচে থাকে। এভাবেই বছর ফুরিয়ে বছর, যুগের পর যুগ পেড়িয়ে মেলা চলমান।