মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ৮৪ বছর বয়সেও হার মানতে শিখেনি “হারুন ভান্ডারী জীবন সংগ্রামী...

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ৮৪ বছর বয়সেও হার মানতে শিখেনি “হারুন ভান্ডারী জীবন সংগ্রামী এক ঝালমুড়ি বিক্রেতা”।

187
SHARE

নিজস্ব প্রতিনিধি : সুমন ভট্টাচার্য: মোহাম্মাদ হারুন ভান্ডারী বয়স ৮৪ বছর, বর্তমানে থাকেন চট্টগ্রাম খুলশী থানাধীন আমবাগান নালা পাড়ায়।পরিবারে ছেলে মেয়ে ৪ জন। পোশাকিভদ্রতা  দেখে ‘নয়টা-পাঁচটা’ অফিসের একজন গতবাঁধা জীবন সংগ্রামী মনে হলেও পেশায় তিনি একজন ঝালমুড়ি বিক্রেতা। বেশ খানিকটা কৌতূহল নিয়েই কাছে গেলাম তার।ঝালমুড়ি খাওয়ার ফাঁকে খানিকটা গল্পে মেতে উঠলাম তার সাথে।

হারুন ভান্ডারী বাবা ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা, নাম মোহাম্মদ রুস্তম খান। পড়ালেখার সাথে কোন এক অজানা কারণেই খুব একটা সখ্যতা গড়ে তুলতে পারছিলেন না। সবার কাছে শুনেছিলেন চট্টগ্রামে নাকি টাকা উড়ে। স্বপ্নবিলাসী হারুন ভান্ডারী তাই চলে আসলেন চট্টগ্রামের ঝাউতলা এলাকায়।

চট্টগ্রামে আসার স্বপ্ন তার পূরণ হলেও , কিন্তু আজব এই শহরে টিকে থাকার সংগ্রাম তাকে বেশ ভাবিয়ে তুলল। বাবার আশীর্বাদপুষ্ট মুক্তিযোদ্ধা কোটাকে কাজে লাগাতে চাইলে হয়ত কোন এক বড় অফিসের ছোট পদের চাকুরীর বন্দোবস্ত করা খুব একটা কষ্টসাধ্য হতো না। কিন্তু খানিকটা ব্যক্তিত্ব সচেতন হারুন ভান্ডারীর চোখে তা আবার ভিক্ষাবৃত্তির সমান। অবশেষে তার মাথায় এল এক অভিনব বুদ্ধি।
ঠিক করলেন তিনি হবেন এক ঝালমুড়িওয়ালা।একেবারে প্রায় বিনা মূলধনে ব্যবসা। তবে চিরাচরিত সেই জীর্ণ বসন আর মলিন মুখের ঝালমুড়িওয়ালা নয়, বরং ক্রেতাদুরস্ত এক সদা হাস্যজ্জ্বল ঝালমুড়িওয়ালা।

লক্ষ্য করে দেখলাম, অন্য আট-দশ জন মুড়িওয়ালার চেয়ে তার ইনকাম বেশ জমজমাট। এমন ব্যতিক্রমী বেশভূষার বিক্রেতাকে চোখে দেখার পরেও তার কাছ থেকে ঝালমুড়ি না কেনার অনুশোচনা নিশ্চয়ই কেউ রাখতে চাইবেন না সাধারণত ।

“সবকিছু মিলিয়ে কেমন চলছে”—– প্রশ্নটার সরাসরি জবাব না দিয়ে মুচকি হেসে একটু কূটনৈতিক চালে জবাব দিলেন, “আমাকে দেখে কি মনে হয় যে আমি খারাপ আছি?” সদা হাস্যজ্জ্বল হারুন ভান্ডারীর চোখে-মুখে সবসময়ই সুখী মানুষের এক পরিতৃপ্তিময় চাহনি বিদ্যমান।
ধনে ও মানে বিত্তশালী একজন মানুষকে খুব সহজেই খুঁজে বের করতে পারবেন আপনার আশেপাশেই। কিন্তু হারুন ভান্ডারীর মত নিজের জীবন নিয়ে সুখে আছে এমন একজন মানুষকে আবিষ্কার করা খুব একটা সহজ হবে কি?