এসপি,ওসি প্রত্যাহার দাবি রেখে ৪৮ঘন্টা আল্টিমেটাম, পুলিশের মামলা, হরতাল পালিত।

এসপি,ওসি প্রত্যাহার দাবি রেখে ৪৮ঘন্টা আল্টিমেটাম, পুলিশের মামলা, হরতাল পালিত।

118
SHARE

নিজস্ব প্রতিনিধি : আহসান উল্লাহ: সহ-সম্পাদক সুপায়ন চাকমার উপর সন্ত্রাসী হামলা ও পুলিশ কর্তৃক ছাত্রলীগের বিক্ষোভে হামলার প্রতিবাদে রাঙামাটি জেলা সদরে সকাল সন্ধ্যা হরতাল পালন করেছে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগ।
সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ ভাবে হরতাল পালন করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। রাঙামাটি রিজার্ভ বাজার, পুরাতন শহীদ মিনার, বনরুপা, কলেজগেট হরতাল আহবান কারীরা অবস্থান নেয়। যানবাহন সহ রাঙামাটি শহরে সকল দোকানপাট বন্ধ ছিলো। কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা ছাড়া হরতাল সফল করে ছাত্রলীগ।
ছাত্রলীগের রাঙামাটি জেলার সভাপতি আব্দুল জব্বর সুজন অভিযোগ করে বলেন, গতকাল ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পরে আমাদের বিক্ষোভ মিছিলে
পুলিশ এসে অতর্কিত হামলা ও ফাঁকা গুলি করে। এতে আমাদের ৫০/৬০ জন নেতাকর্মী আহত হয়। হামলার পরোক্ষভাবে কোতোয়ালী থানার ওসি’কে মদদ দিয়েছেন পুলিশ সুপার (এসপি) ও এএসপি। আহত সহ-সম্পাদক সুপায়ন চাকমার উপর হামলাকারী পিসিপি’র সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও এসপি, এএসপি, ওসি প্রত্যাহার দাবিতে ১৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গোলবার সকাল সন্ধ্যা শান্তিপূর্ণ ভাবে হরতাল পালন করেছি আমরা।
আমরা ৪৮ ঘন্টা আল্টিমেটাম দিচ্ছি এসপি, এএসপি, ওসি, প্রত্যাহার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির জন্য দাবি রেখে। ৪৮ ঘন্টার মধ্যে এসপি, এএসপি, ওসি প্রত্যাহার না করলে সিনিয়র নেতাদের সাথে অনুমতিক্রমে কঠোর কর্মসূচী দেওয়া হবে বলে নেতাকর্মীদের নিয়ে সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশ বলেন, আব্দুল জব্বার সুজন।
বিকালে শেষমুহুর্তের সময়ে রনরুপা বি,এম মার্কেটর সামনে সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভে সমাবেশে মুল দল আওয়ামী লীগ ব্যতীত অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. সাওয়াল উদ্দিন, শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুল আলম, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ কাজল, এবং ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমা প্রমুখ। অঙ্গসংগঠনের নেতারা বলেন, পুলিশ হামলাকারী পিসিপি’র সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার না করে প্রতিবাদরত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা করে। অতিবিলম্ব সন্ত্রাসীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া পুলিশ সুপার, এএসপি, ওসির প্রত্যাহার দাবি করে। তারা আরো বলেন, এই ধরণের এসপি, এএসপি, ওসি থাকলে রাঙামাটিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাহাঙ্গামা সৃষ্টি হবে। এদের উদ্দেশ্য পাহাড়ি-বাঙালী শান্তি শৃঙ্খলা নষ্ট করা।
সুপায়ন চাকমার হামলার জন্য ছাত্রলীগ জেএসএস সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) কে দায়ী করে আসছে।
১২ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাতে রাঙামাটি শহরে পুলিশের উপর হামলাসহ কর্তব্যকাজে বাঁধাদানের ঘটনায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৪ থেকে ৫ শতাধিক অজ্ঞাতনামাকে আসামী করে পুলিশের পক্ষ থেকে সোমবার রাতেই কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
থানা সূত্র বিস্তারিত জানিয়েছে, ধারা ১৪৭/১৪৯/৩৩২/৩৩৩/৩৫৩/৪৩৫/৪২৭ পোনাল কোড এ উক্ত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসআই শিবু প্রসাদ দাশ বাদি হয়ে এই মামলা দায়ের করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটি সদর কোতয়ালী থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) সত্যজিৎ বড়ুয়া।
উল্লেখ্য যে, ১২ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকাল শেষমুহুর্তে রাঙামাটি মারি স্টেডিয়ামে ক্রিকেট খেলে বাসায় ফিরে অাসার সময়ে ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সুপায়ন চাকমার উপর অজ্ঞাত নামা সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা করে। হামলায় রুপায়ন চাকমা মারাত্মকভাবে আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে রাঙামাটি সদর হাসপালে ভর্তি করে। তাৎক্ষণিক রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগ জেলা শহরের বনরুপা বাজার বিক্ষোভ মিছিল ও সড়কে ট্রায়ার জ্বালিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে পুলিশ এসে সড়ক ছেড়ে দিতে বললে সংঘর্ষ বাজে। রাতে সর্বশেষ ছাত্রলীগ ১৩ ফেব্রুয়ারি সকাল সন্ধ্যা অবরোধ কর্মসূচী ঘোষণা করে।