আপনার ভ্রমণের আনন্দ কে দ্বিগুণ করতে এবার না হয় সন্দ্বীপ থেকে ঘুরে...

আপনার ভ্রমণের আনন্দ কে দ্বিগুণ করতে এবার না হয় সন্দ্বীপ থেকে ঘুরে আসুন।

97
SHARE
 নিজস্ব প্রতিনিধি : হাবিবুর রহমান ( সুজন) : সন্দ্বীপ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকুলে অবস্থিত একটি দ্বীপ । এটি বঙ্গোপসাগরের উত্তর পূর্বকোনে মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত। চতুর্দিকে নদী আর সাগর বেষ্টিত এই ছোট্ট দ্বীপ সন্দ্বীপ । শত বছরের পুরনো অতিহ্য ইতিহাসে ভরপুর । মনোরম স্নিগ্ধ পরিবেশ মুক্ত হাওয়া মনে হয় পৃথিবীর আর কোথাও নেই।
সন্দ্বীপ সম্পর্কে উইকিতে বিস্তারিত জানতে পারবেন এখানে সন্দ্বীপ ভ্রমণে আপনাকে (বঙ্গোপসাগরের মোহনা )এ নদীর উপর দিয়ে যেতে হবে। ভয় চিন্তা হচ্ছে এত বড় নদী আর সাগরের কথা শুনে । ঝেড়ে ফেলুন আপনার সকল চিন্তা । ভ্রমণপিপাসু মানুষের জন্য এখনি সঠিক সময় দ্বীপ ভ্রমণ করে আসার । বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বেড়িয়েছেন পাহাড় দেখেছেন পর্বত দেখেছেন সমুদ্র দেখেছেন । আপনার ভ্রমণের আনন্দ কে দ্বিগুণ করতে এবার না হয় সন্দ্বীপ থেকে ঘুরে আসুন । এত্ত এত্ত বড় নদী !!সাহস হচ্ছে না !! ব্যাপার না ম্যান । ভ্রমণ করতে গেলে একটু সাহস লাগে ভয় থাকলে ভ্রমণের মজাই থাকে না । আপনার জন্য সুখবর হল শীতের এই মৌসুমে বেশী সময় নিয়ে নদীতে থাকতে হবে না । বড়জোর মাত্র ত্রিশ মিনিট সময় থাকতে হবে । এই সময়ে নদী অনেক কোমল । সাতার জানলে তো সাঁতরাতে ইচ্ছা করবে । এখন কি একটু সাহস হচ্ছে ? তাহলে আর দেরী কেন দলবেঁধে অথবা দুইজন মিলে যেভাবেই সুবিধে বেড়িয়ে পড়ুন । ঘুরে আসুন সন্দ্বীপ থেকে আর চমকে দিন সবাইকে ।

কিভাবে যাবেন ?
খুবসহজে হেলিকপ্টার করে যেতে পারেন । তবে এটা ব্যায়বহুল । সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাহিরে ।
এছাড়া নৌ পথকে বেঁচে নিতে হবে । নৌ পথের ভ্রমণের আনন্দ অন্যরকম , অন্যান্য ভ্রমণের চেয়ে একেবারেই আলাদা । নৌ পথের অন্যতম মাধ্যম হল –
স্টীমার , লঞ্চ ,স্পীডবোট ।
ষ্টীমার – জাহাজে ভ্রমণ । এই ভ্রমনের মজা অনেক । সময় সাপেক্ষ আনন্দ আছে বটে । এজন্য আপনাকে যেতে হবে সদরঘাট । সপ্তাহে তিন দিন এই সার্ভিস থাকে সকাল ৯ টায় সদরঘাট ছেড়ে যায় সন্দ্বীপের উদ্দেশ্যে । বর্তমান সময়ে এই ভ্রমণে একটু সমস্যা হবে, বিরক্ত বোধ করতে পারেন । তার অন্যতম কারন হল সন্দ্বীপের পশ্চিমে জেগে উঠা চর । যার কারনে উঠা নামাতে দীর্ঘ সময় এবং কষ্ট পোহাতে হবে ।(আপাতত এই সার্ভিসটি বন্ধ আছে)
লঞ্চ- আমরা দ্বীপের মানুষেরা বলে থাকি ট্রলার । কাঠের তৈরি অনেকটা নৌকার মতই । এতে করে যেতে পারেন । এজন্য আপনাকে যেতে হবে কুমিরা সন্দ্বীপ ঘাট । এখানে যাত্রী বহনযোগ্য লঞ্চ আছে , সাথে মাল বোঝায় করে এমন লঞ্চে করে যেতে পারেন । এটাতে সময় বাচবে খরচের পরিমাণ ও কম । উঠা নামায় খানিকটা সমস্যা হবে । এ যাত্রায় আনন্দ আছে তবে অতিরিক্ত যাত্রী , মাল বোঝায় থাকার কারন সেই আনন্দ ফিকে হতে পারে ।
স্পীডবোট -দ্বীপে আসা যাওয়ার জন্য বর্তমান সময়ের অন্যতম বাহন । দ্রুতগতি সম্পন্ন এই বাহন মাত্র কয়েক মিনিটে আপনাকে দ্বীপে পৌঁছে দিবে । এক্ষেত্রে গুনতে হবে ৩০০ টাকা ।
এ ভ্রমনে আনন্দ আছে সময়ও বাঁচবে । উঠা নামায় সমস্যা কাদা মাখামাখি করতে হবে না । একাধিক সঙ্গী হলে একটা বোট ভাড়া করে যেতে পারেন ।একজন বা দুইজন হলে নরমালি যাওয়ায় ভালো । এজন্য আপনাকে যেতে হবে কুমিরা সন্দ্বীপ ঘাট । আরও দুই একটা ঘাট রয়েছে তবে সন্দ্বীপ শহরে যেতে এটাই সহজ পথ এটাই বেস্ট ।
কুমিরা যাবেন কিভাবে ?
একেবারেই সহজ দেশের যেই প্রান্তে থাকুন না কেন আপনাকে চট্টগ্রাম আসতে হবে । (সড়ক যোগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসার পথে কুমিরা হয়ে আসতে হবে ,সেক্ষেত্রে চাইলে সরাসরি কুমিরাতেই নামতে পারবেন ) । চট্টগ্রাম শহরের যে কোন জায়গা থেকে সরাসরি চলে আসতে পারেন কুমিরা । সহজ এবং সময় বাচাতে ট্যাক্সি ভাড়া করতে পারেন । সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা খরচ পড়বে ।
এই তিনটি মাধ্যমের যেকোন একটি আপনি বেঁছে নিতে পারেন । আমি বলব এই সময়ে ভ্রমণ সুখকর করতে স্পীড বোট টাই নিরাপদ এবং আনন্দদায়ক ।
ধরে নেওয়া যাক আপনি সন্দ্বীপ ঘাটে পৌঁছে গেছেন । তাহলে কি করবেন ?প্রথমে ঘাট থেকে সন্দ্বীপ টাউন কমপ্লেক্স আসতে হবে । ট্যাক্সি ভাড়া করে আসা বেটার ১৫০ টাকা খরচ পড়বে । এখানে স্বল্পমূল্যে থাকার জন্য গেস্ট হাউজ রয়েছে । খাওয়ার জন্য ভালো মানের কিছু রেস্টুরেন্ট পাবেন হাতের কাছেই ।
তাবু করে কি থাকা যাবে ?
আবার জিগায় ! অবশ্যই থাকতে পারবেন । সেটা অনেক আনন্দের / উপভোগ্য হবে । তাহলে কোন দেরী নয় ? কমপ্লেক্স থেকে সোজা সরাসরি চলে যান দ্বীপের পশ্চিমে একেবারেই নদীর কিনার ঘেঁষে । এক্ষেত্রে স্থানীয়দের সাহায্য নিতে পারেন । উপযুক্ত জায়গা নির্বাচন করে তাবু করে নিন ।
রাতের মিটিমিটি আলো , খোলা আকাশের নিচে নদীর কলকল ধ্বনি ঘন কুয়াশায় কয়েকটি রাত পার করে দিতে পারবেন একেবারেই অনায়াসে । দ্বীপের বিখ্যাত ফার্মেসী অব কংগ্রেস নেই তাতে কি ? আপনার সাহায্য কবির কফি হাউজ তো এখনো আছেই । যে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই কবির কফি হাউজের দেখা মিলবে । কফির পাশাপাশি সাহায্য পেয়ে যাবেন !দ্বীপের কোন জায়গায় ঘুরতে যাবেন ?
অবাক হওয়ার কিছুই নেই ! দ্বীপের প্রত্যেকটি জায়গা দেখার মতন । ফসল ভরা মাঠ সবুজ প্রকৃতি, হাট ,বাজার সব কিছু । দ্বীপের উত্তর থেকে দক্ষিনের সব প্রান্ত ঘুরে দেখতে পারেন অনায়াসে । দ্বীপের উত্তরে তাজমহলের আদলে নির্মিত শত বছরের পুরনো মরিয়ম বিবি সাহেবানী মসজিদ । মসজিদ সংলগ্ন বড় দিঘী , মাজার । দ্বীপের দক্ষিনের ঐতিহ্যবাহী শুকনা দিঘী । এছাড়া রয়েছে অসংখ্য মসজিদ ,স্কুল, মাদ্রাসা , বড় বড় খেলার মাঠ। ভাগ্য ভালো থাকলে দেখেতে পারবেন পুরনো বাউল জারী সারি গানের আসর ।
কি কি খেতে পাওয়া যাবে ?
নিত্য প্রয়োজনীয় সমস্ত খাবার আপনি পেয়ে যাবেন অতি সহজে । নিজেরা বাজার করে তৈরি করে নিতে পারেন । নদীর মাছ মাংস থেকে শুরু করে শীতের পিঠা সব কিছু পাবেন । আর এই মৌসুমের সবচেয়ে সুস্বাদু খেজুরের রসের সিন্নি । এছাড়া দ্বীপের বিখ্যাত মিষ্টি খেয়ে নিতে পারেন । সেটার জন্য আপনাকে দ্বীপের দক্ষিনে শিবের হাট পর্যন্ত যেতে হবে । রিক্সা টেক্সি বাইকে করে খুব সহজে যেতে পারবেন ।
সন্দ্বীপ ভ্রমণে কত টাকা খবচ পড়বে ?
হাজার তিনেক টাকার মধ্যে আপনি খুব ভালোভাবে ভ্রমণ করে আসতে পারবেন এই দ্বীপ থেকে । স্থানীয় কোন বন্ধু থাকলে তো আর কথা নেই । এই শীতের সময়টা হচ্ছে উপযুক্ত আপনার জন্য । সব কিছু ঘুরে দেখে আসার জন্য এই সময়ের কোন বিকল্প নেই ।
পিকনিক / সমুদ্র ভ্রমণ করা যাবে কি ?
পিকনিক স্পটের সমুদ্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই দ্বীপকে বেঁছে নিতে পারেন । এর বিকল্প মনে হয় না আর কোথাও আছে । অনেক তো কক্সবাজার , রাঙ্গামাটি বান্দরবন ঘুরে এসেছেন । এবার না হয় পিকনিক করতে চলে যান দ্বীপে । সমুদ্র ভ্রমণ হল পাশাপাশি পিকনিকের আনন্দ নিয়ে ফিরতে পারবেন । সুখবর হল দিনের মধ্যে এই দ্বীপে গিয়ে পিকনিক করে আবার ফিরতে পারবেন এই সময়ে । উচ্চবিলাসী সমুদ্র ভ্রমনের জন্য ষ্টীমার বা সিটাক ভাড়া নিতে পারেন সেক্ষেত্রে সদর ঘাট অথবা কুমিরা ঘাট এ যোগাযোগ করতে হবে । সম্ভবত বি আই ডব্লিউ টি সি এর অনুমতি নিতে হবে । (এ ক্ষেত্রে খরচ ও বেশ পড়বে)