মাদকের স্বর্গরাজ্য মেক্সিকো প্রতি ঘন্টায় খুন হয় প্রায় ৩ জন।

মাদকের স্বর্গরাজ্য মেক্সিকো প্রতি ঘন্টায় খুন হয় প্রায় ৩ জন।

88
SHARE

কিউ২৪ নিউজ ডেস্ক : উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকো। দেশটি বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত মাদকের জন্য। মাদকের পাশাপাশি খুনের জন্যও বিখ্যাত এই দেশ। শুধুমাত্র গত বছরে প্রায় সাড়ে ১০ কোটি জনসংখ্যার এই দেশে সরকারি হিসেবে খুন হয়েছে ২৫ হাজারেরও অধিক মানুষ। যদিও বেসরকারি হিসেবে এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

এক বছরে যদি ২৫ হাজার খুন হয় তাহলে প্রতিদিন এ দেশে গড়ে খুন হয় ৬৮.৫০ জনের মতো। এর মানে প্রতি ঘন্টায় খুন হয় প্রায় ৩ জন মানুষ। আর এসব খুনের প্রধান কারণ হলো মাদক।

বলা হয়, মাদকের স্বর্গরাজ্য মেক্সিকো। বছরে দেশটিতে পাইকারি বাজারে মাদক বিক্রির মাধ্যমে ১ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার থেকে ৪ হাজার ৯৪০ কোটি ডলার আসে।  আর মাদকের ব্যবসার নিয়ন্ত্রণের জন্যই দেশটির বিভিন্ন মাদকগোষ্ঠী নিয়মিত সংঘর্ষে জড়ায়। কারণ তাদের একটাই লক্ষ্য আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। এমনকি তারা এই ব্যবসা চালিয়ে যেতে সরকারি বাহিনীর সঙ্গেও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। বলা যেতে পারে তাদের টার্গেটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও রয়েছে। কেন না এই বাহিনীর হাতে তাদের অনেক সহযোগিকে হারাতে হয়েছে। এ কারণে প্রতিশোধের স্পৃহা তাদের ভয়ঙ্কর করে তোলে।

‘৬০-এর দশকের শেষের দিকে মেক্সিকোর মাদক ব্যবসায়ীরা পুরোদমে শুরু করে এই ব্যবসা। এরপর ‘৮০-এর দশকের শুরুর দিকে এই স্থানটিতে চলে আসে কলম্বিয়া। ’৯০-এর দশকে কলম্বিয়ায় এ ব্যবসায় কিছুটা ভাটা পড়লে তখন আবারো চলে আসে মেক্সিকো। তবে এ সময় মেক্সিকো কলম্বিয়ার সঙ্গে যৌথ অংশিদারিত্বের মাধ্যমে এ ব্যবসায় এক নতুন মাত্রা যোগ করে। মেক্সিকোতে এ সময় হেরোইন এবং গাঁজার ব্যবসা বেশ রমরমাভাবে চলতে থাকে। এগুলো তখন পরিবহনের মাধ্যমে কলম্বিয়ায় পাঠানো হতো। মেক্সিকোর পরিবহন ব্যবসায়ীরা কলম্বিয়ার মাদক পাচারকারীদের সঙ্গে আঁতাতের মাধ্যমে এগুলো তখন পাচার করতো। তবে নিয়মিতই মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে সরকারি বাহিনী। তবে তাদের কোনোমতেই দমানো যাচ্ছে না। দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে তারা।

জুলাইতে দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। নির্বাচনের প্রধান ইস্যু সহিংসতা। এ অবস্থায় দেশের যে এলাকাগুলোতে সহিংসতা বাড়ায় খুন রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, সেখানে অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে নতুন করে সেনা অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার, রবিবার এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।

মেক্সিকোর জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনার রেনাতো সেলেস জানিয়েছেন, বড় ধরনের অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে ও তদন্তে গতি আনতে কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করবেন। সব মেক্সিকানের জন্য শান্তি ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনার’ লক্ষ্যে অভিযানটি শুরু করা হচ্ছে।

সেলেস জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনীকে কোলিমা, বাজা ক্যালিফোর্নিয়া সুর রাজ্যে এবং অন্যান্য এলাকার মধ্যে রিসোর্ট শহর কানকুন এবং সীমান্ত শহর সিউদাদ হুয়ারেজেও মোতায়েন করা হবে।আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।