চট্টগ্রামের খুলশী এলাকাতে প্রভাবশালীদের পাহাড় দখলের প্রতিযোগিতায় উঁচু পাহাড় সমতল হয়ে গেছে...

চট্টগ্রামের খুলশী এলাকাতে প্রভাবশালীদের পাহাড় দখলের প্রতিযোগিতায় উঁচু পাহাড় সমতল হয়ে গেছে আর চলছে প্লট বানিজ্য।

171
SHARE

নিজস্ব প্রতিনিধি : হাবিবুর রহমান ( সুজন): উঁচুনিচু সবুজে ঘেরা পাহাড় মাঝ দিয়ে একেঁবেকে চলছে পাহাড়ি নদী। মাঝে-মাঝে ঝরনার চপলা পায়ে ছুটে লাল নূপুরের ছন্দ। যেদিকে তাকানো যায় সবুজ আর সবুজ। খারাপ মনটাও ভালো হয়ে যায়। সবুজের সান্নিধ্যে। বুকভরে নিঃশ্বাস নেওয়া যায়। যে নিঃশ্বাসে নেই ধুলোবালি, নেই সীসা, নেই কোনও কালো ধোঁয়ার বিষ। নির্মল বাতাসে তাজা হয়ে ওঠে দেহমন। তবে বর্তমান প্রকৃতিক এই অপার সৌন্দর্যেও লেগেছে অসুন্দরের ছোঁয়া স্থানীয় প্রভাবশালীদের পাহাড় দখলের প্রতিযোগিতায় উঁচু পাহাড় সমসতল হয়ে গেছে আর তা প্লট বানিয়ে বিক্রি চলছে?
পাহাড় আর পাহাড়ি নদীর দুপাড়ের বিস্তীন অঞ্চল । আবার পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হচ্ছে ইটের ভাটা। এর মাটি যাচ্ছে শহরে কোন নিচু জমি ভরাট করে সুরম্য অট্টালিকা তৈরির জন্য। পাহাড়ের গায়ে মানুষের বসতি গড়ে ওয়অর কারণে জীববৈচিত্র্য রয়ছে হুমকির মুখে। নানা প্রজাপতির বৃক্ষরাজি হারিয়ে পাচার ও ধ্বংসযজ্ঞে। অনিন্দ্য সবুজের বিবর্নতা নিয়ে ফ্যাকাশে মূখে দাঁড়িয়ে আছে পাহাড় আমাদের অসচেতন কর্মকান্ডের সাক্ষি হয়ে। পাহাড়ি বনাঞ্চলের একসময় মুখরিত ছিল হরিন, বান, হনুমান, ময়ূর, টিয়া, ময়না, খরগোশ, শুকর, বন মুরগি, বিভিন্ন ধরনের সাপ, ব্যাঙসহ অসংখ্য পাখি, আর যেমন, বানর এই সব বনঞ্চলের সুন্দরয্য। দেখা যায় না বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদকুল।
জীববৈচিত্র্য পাহাড় আজ ন্যাড়া মাথায় দাঁড়িয়ে আছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলছে এসব কাজ। ফলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস ও উপকারী কীটপতঙ্গ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে পাহাড়ের গা থেকে। পাহাড়ের অবয়ব দাঁড়াচ্ছে রক্ত-মাংস ছাড়া মানুষের কঙ্কালের মতো। পাহাড় ধসে প্রাণ হানির ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বর্ষা মৌসুমে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ের মাটি ক্ষয়ে মেশে ঝরনা, ছড়া ও পাহাড়ি নদীসহ বিভিন্ন নদীতে। ফলে নদীর নাব্য হারিয়ে যাচ্ছে সৃষ্টি হচ্ছে বন্যার।
অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসে মৃত্যুর আশঙ্কা নির্মম বাস্তবতা হলেও একই ঘটনা ঘটছে বার বার। তাজা প্রাণ মাটি চাপা পড়ে প্রায় প্রতি বছরই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। বৃষ্টিপাতের এই মৌসুমে যে প্রাণহানি হবে না তা জোর দিয়ে বরা যায় না? প্রভাবশালী ও একশ্রেণীর মানুষ । পরিবেশ আইন পাহাড় কাটা নিষিদ্ধ হলেও নির্বিচারে চলছে মাটি সংগ্রহের কাজ।
এসব মাটি ইটভাটা, রাস্তা মেরামত ও নিচু জমির ভরাটসহ নানা কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। পাহাড়ের মাটি কাটার ফলে বৃক্ষরাজি হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্থ। ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। বৃষ্টিপাতের ফলে নামছে ধস। বেড়ে যাচ্ছে পাহাড় ধসে মৃত্যুর আশঙ্কা। পাহাড়ের ওপর ও পাদদেশে দিন দিন ঝুঁকিপূর্ন বসতি বেড়েই চলেছে। অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে পাহাড়ে বসতি স্থাপনের জায়গা। মানুষের বসতির কারণে যেমন জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে তেমনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস করছে মানুষ।
২০০৭ সালে ১১ জুন প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড় ও দেয়াল ধসে ১৩২ জনের প্রাণহানির পর গঠন করা হয়েছিল পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি। ২০১৭ সালে জুন মাসে ১৬৩ জনের প্রাণ হারায় পাহাড় ধসে। তারপর ও টনক নড়ে নি। ওই কমিটির মাধ্যমে পাহাড়ে বসবাসকারী অধিবাসীদের সরিয়ে নেওয়া বা বিকল্প কোনও আবসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। ১২টি পাহাড়ে ৬ শতাধিক ঝুঁকিপূর্ন বসতি চিহ্নিত হলেও গত সাত বছরে উল্লেখযোগ্য কোনও কাজ হয়নি। চট্টগ্রামে খুলশী এলাকার একটি আবাসিক এলাকার ভেতরে রাতের আঁধারে পাহাড় কেটে উজাড় করছে লোহাগাড়া হাউজিং নামের একটি আবাসিক সংগঠন। গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পাঁচটি এক্সক্যাভেটার দিয়ে রাতের আঁধারে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত জালালাবাদ পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। বিশেষ কৌশলে পাহাড় কাটার কারণে নজরদারি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কিছুই জানেনা। অন্যদিকে সেখানে রাস্তা বন্ধ করে গনমাধ্যমসহ সব শ্রেণীর সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় মাস্টার দা সূর্য সেন ও তার সহযোগিরা ওই পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঐতিহাসিক মূল্য ধারণ করা সেই পাহাড়ের বড় একটি অংশ অনেক আগেই সাবাড় করেছে একটি চক্র। এরকম পাহাড় উজাড় করেই এর আগে জালালাবাদ পাহাড়ের এলাকার পাশে আরেকটি আবাসিক এলাকা নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আর এর ঠিক পাশেই এখন লোহাগড়া হাউজিং নামের একটি সংগঠন নতুন করে পাহাড় কাটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীরা বলেছেন, বাইরে থেকে কাউকে ওই এলাকার ভেতরে ঢুকতে না দেয়ায় ভেতরে ঠিক কি হচ্ছে সরাসরি বোঝা মুশকিল। তবে পার্শবর্তী উঁচু ভবন ও পাহাড়ের ছাদ থেকে পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সেখানে গত ১৫ দিনের বেশি সময় রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ৪/৫টি এক্সক্যাভেটার প্রতিদিন পাহাড় কাটছে। কাটা অংশের আয়তন যে দিন দিন বাড়ছে তা অনেক দূর থেকেও দেখা যাচ্ছে।খুলশী থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদেরকে জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন তাকে জানিয়েছেন, জালালাবাদ মৌজার ২৩ নম্বর খতিয়ানের ২৭ নম্বর দাগের ওই পাহাড়টি লোহাগাড়া হাউজিংয়ের মালিকানাধীন। তারা নিয়মিত এর খাজনাও পরিশোধ করে। কিন্তু কোনো পাহাড় ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তির ভেতর হলেও সেটি কাটার অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘কোনো ধরণের পাহাড় কাটার অনুমতি নেই। তবে বিষয়টি পরিবেশ অধিদফতরের দেখা উচিত। তারই পরিপেক্ষিতে ২৮ শে জানুয়ারি রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী নেতৃত্বে একটি অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সময় পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন, র‍্যাব, পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা অংশ নেয়।অভিযান শেষে জালালাবাদ হাউজিংয়ের পাশে লোহাগড়া নামক স্থানে পাহাড় কাটার সময় তিনটি এক্সাভেটর জব্দ করেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জেলা প্রশাসক বলছেন, রাতে পাহাড় কেটে তারা হাউজিং প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছে। এর আগে জেলা প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে ভাড়াটে লোকজন তাদের মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিস নিয়ে যায় বলে জানান জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী।
জেলা প্রশাসক জানান, পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কোনোভাবে পাহাড় কাটতে পারবে না।

অপর দিকে কিউ ২৪ নিউজ ডটকম এর প্রতিনিধির সাথে সুসিল সমাজের কথা হয় তাড়া বলেন যেই ভাবে পাহাড় কেটে সমতল করে প্লট বানাছেন? চট্টগ্রাম এ প্ররিবেশ দিন দিন লাজুক আখার দারণ করছে ? তারা আরো বলেন এই মুহুতে প্রধান মন্তী হসতখেপ কমনা করছেন? পাহাড় কাটা, পাহাড়ি বৃক্ষ উজাড় করা, অবৈধ বসতি স্থাপন বন্ধ, কাঠ পাচার রোধ করতে সরকারি নজরদারি জোরদার করতে হবে। মানুষের ভেতর সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। মানুষের ভেতর সব নানাবিধ উদ্যোগ। এই উদ্যোগে শামিল হয়ে প্রকৃতির সাম্যবস্থা বজায় রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার।