মুগ্ধতার ছোয়া যেনো সুন্দরবনের হেনরী দ্বীপে একবার ভ্রমন করুন।

মুগ্ধতার ছোয়া যেনো সুন্দরবনের হেনরী দ্বীপে একবার ভ্রমন করুন।

95
SHARE
নিজস্ব প্রতিনিধি : হাবিবুর রহমান (সুজন):

হেনরী দ্বীপের কথা শুনে অবাক হচ্ছেন, ভাবছেন সুন্দরবনে হেনরী দ্বীপ। নামটি শোনা হয়নি হয়তো তাই আরও রহস্যময় লাগছে। এই হেনরী দ্বীপ নিয়েই থাকছে কিছু কথা। সুন্দরবনের পশ্চিম কোল ঘেঁষে দাড়িয়ে আছে চমকপ্রদ একটি দ্বীপ যার নাম হেনরী দ্বীপ। তবে এই হেনরী দ্বীপটি বাংলাদেশের সীমানাতে নয়, এটি ভারতের সীমানায় পড়েছে। ভারতের বকখালি ও ফ্লেজারগঞ্জের কাছে সমুদ্রের ধারে, সুন্দরবনের পশ্চিম সীমানা ঘেঁষে এটির অবস্থান।

ভ্রমনপ্রিয়সীদের কাছে এটি একটি সুন্দর বেড়াবার জায়গা। প্রায় ১০০ বছর আগে হেনরী নামে এক ব্রিটিশ সার্ভেয়ার এই (উপ)দ্বীপটি সার্ভে করেন। তারই নামে এই দ্বীপের নাম হেনরী দ্বীপ ৷ ১৯৮০ সালে মৎস দপ্তর দ্বীপটিকে পর্যটনের উপযুক্ত করে তোলেন।

চারদিকে সবুজ ম্যানগ্রোভে ঘেরা অঞ্চলটি আপনার মন জুড়িয়ে দেবে। এখানে দেখতে পাবেন নানা প্রজাতির পাখি ও কাঁকড়া। বহুদূর দৃশ্যতাকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য রয়েছে একটি ওয়াচ টাওয়ার। যার উপরে উঠলে প্রথমেই সমুদ্রের সুঘ্রাণ নিয়ে হওয়া এসে মন মাতাল করে দেয়। ওয়াচ টাওয়ারের ওপর থেকে মাথা উঁচু করে থাকা জনমানবহীন বিস্তীর্ণ সবুজ বনাঞ্চলের শিরোদেশ অনেক গল্পের কথা মনে করায়। ভাসিয়ে নিয়ে যায় কল্পনার বাস্তবে।

ওলিগলি জঙ্গলের রাস্তা পেরিয়ে সমুদ্রের পথে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালে শুনতে পাবেন সমুদ্র দেবতার গম্ভীর গর্জন। পুরি বা দীঘার সমুদ্রসৈকত আমাদের বিপুল জলরাশির পাশাপাশি অজস্র মানুষের ভিড়ের কথাও মনে করায়। যা এখানে পাবেন না। সমুদ্র যেন এখানে আপনার একাকিত্ব ভেঙে ফেলার জন্যই ঢেউ আছড়ে ফেলছে। বিশাল সমুদ্র সৈকত ব্যস্ত জীবন মুহূর্তে ভুলে যেতে সাহায্য করে।

সমুদ্র সৈকতে পৌঁছেই চোখে পড়বে, সমগ্র সৈকত জুড়ে বিছিয়ে থাকা লাল ফুলের দিকে। ফুলের মতো এই লাল কাঁকড়ার নাগালের মধ্যে যাওয়ার আগেই তারা মায়াবি দৌড়ে অদৃশ্য হয়ে যায় নিজের কোটরে। এই বালি ও মাটি মেশানো বিচটি খুব চওড়া। ভাটার সময় সমুদ্র অনেক দূরে চলে যায়। বিচের ধারে প্রচুর গাছ আছে। এমনকি বিচের ওপরেও কিছু গাছ আছে। বিচের ওপরে অনেক সময় ঝাকে ঝাকে লাল কাঁকড়া দেখা যায়। সাধারণত বিচটি নির্জন থাকে। সব মিলিয়ে জায়গাটা খুব সুন্দর।

হেনরী দ্বীপ কোলকাতা থেকে মাত্র ১৩০ কিমি দূরে ও গাড়িতে করে প্রায় ৪ ঘণ্টায় পৌঁছান যায়।

হেনরী দ্বীপে রাত্রিবাসের জন্য বেশ কয়েকটি আবাস আছে যার মধ্যে ‘সুন্দরী’ নামে বাড়িটি খুব ভাল। এর সাথে ওয়াচ টাওয়ারও আছে, যার ওপর থেকে বন এবং, ভাগ্য ভাল থাকলে, হরিণ ও বন্য শুয়োর দেখা যায়। এই ওয়াচ টাওয়ার পেরিয়ে বিচের দিকে বেশি দূর গাড়ি যায় না। পায়ে হেঁটে বনের ভিতর দিয়ে মেঠো রাস্তা আর বাঁশের সাকো পেরিয়ে বিচ-এ য়েতে হয়। ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগে। বিচটির নাম কিরণ বিচ।

এখানে মৎস্য চাষের নানা প্রকল্প আছে৷ শীতের সময় এখানে নানা প্রজাতির পাখি আসে হেনরী আইল্যান্ড খুব একটা বিছিন্ন দ্বীপ না হলেও জনবহুল শহর বা পর্যটন কেন্দ্র থেকে একাকিত্ব খুঁজে নেয়ার উপযুক্ত জায়গা। হেনরীতে পৌঁছে বুক করে নিতে পারেন এখানকার ছোট ছোট রিসর্টগুলির যেকোনো একটি বা দুটি।

আপনার অবসর কিংবা ছুটির দিনগুলোতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন হেনরী দীপ থেকে

মিডিয়া পাটনার  কিউ ২৪ নিউজ ডটকম