নেইমারের স্বার্থপরতায় দুয়ো দিয়েছে খোদ পিএসজির গ্যালারি। কিন্তু কেন?

নেইমারের স্বার্থপরতায় দুয়ো দিয়েছে খোদ পিএসজির গ্যালারি। কিন্তু কেন?

94
SHARE

কিউ২৪ নিউজ ডেস্ক : গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার মৌসুমে রেকর্ড গড়ে ফ্রান্সের ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে (পিএসজি) যোগ দেন তিনি। তারপর থেকে যথারীতি তিনি উড়ছেন। তাকে এতো দামে কিনে যে পিএসজি ভুল করেনি তার প্রমাণ প্রতি ম্যাচেই দিয়ে যাচ্ছেন।

চোটের কারণে ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানে নিজ ক্লাবের শেষ ম্যাচটি খেলেননি নেইমার। তবে দিজোঁর বিপক্ষে মাঠে নামলেন এবং এক ম্যাচ বসে থাকার ক্ষতিটা সুদে-আসলে উশুল করলেন। ফিরেই করলেন চার গোল। করালেন দুই গোল। এতেই ফ্রেঞ্চ লিগে দিজোঁকে আট গোলে উড়িয়ে দিয়েছে পিএসজি। এমন রাতের পর নেইমার স্তুতির বন্যায় ভেসে যাওয়ার কথা তার। কিন্তু সেই প্রশংসার গুড়ে বালি ঢেলে দিচ্ছে এক বিতর্ক। নেইমারের স্বার্থপরতায় দুয়ো দিয়েছে খোদ পিএসজির গ্যালারি। কিন্তু কেন? ঘটনার সূত্র পুরনো, তবে নতুন করে মাথাচাড়া দেয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। তাই আবারও আলোচনায় সেই নেইমার ও এডিনসন কাভানির দ্বন্দ্ব। গত সেপ্টেম্বরে পেনাল্টি শট নেয়াকে কেন্দ্র দুজনের দ্বন্দ্ব রীতিমত বারুদের গন্ধ ছড়িয়েছিল পিএসজি ড্রেসিংরুমে। সেই দ্বন্দ্বের অবসান হয়েছে আরো আগেই। কোচ উনাই এমেরিও নেইমারকেই পেনাল্টি নেয়ার সার্টিফিকেট দিয়েছেন। উরুগুয়ের সুপারস্টারও মেনে নিয়েছেন এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু পেনাল্টির একক স্বাধীনতা পেয়েই ‘স্বার্থপর’ হয়ে উঠেছেন ব্রাজিল তারকা! যার প্রমাণ পাওয়া গেল বুধবারের ম্যাচে। এবারের ঘটনাও সেই পেনাল্টি শট নেয়াকে কেন্দ্র করেই।

গতরাতে নেইমার নিজের স্বাধীনতার জায়গা থেকেও সৌজন্যতা দেখাতে পারতেন। কিন্তু এর বদলে আচরণ করেছেন স্বার্থপরের মতো। এটাই জন্ম দিয়েছে বিতর্কের। অথচ বার্সায় থাকাকালে নেইমারের গোল খরা কাটাতে নিজের হ্যাটট্রিককে বিসর্জন দিয়েছিলেন বার্সার প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি।

ঘটনার সূত্রপাত ম্যাচের ৮৩ মিনিটে। ততক্ষণে পিএসজি নেইমারের হ্যাটট্রিক, অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়ার জোড়া গোল, কাভানি ও এমবাপ্পের একটি করে গোলে সাত গোলে ম্যাচে এগিয়ে ছিল। ঠিক তখনই পেনাল্টি পায় প্যারিসের ক্লাবটি। গ্যালারি থেকে তখন কাভানির নামে স্লোগান ওঠে। কারণ ততক্ষণে সবাই জেনে গেছে, পিএসজির ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের ১৫৬ গোলের রেকর্ড ধরে ফেলেছেন কাভানি। আর এক গোল করলে গড়বেন নতুন ইতিহাস। নেইমারের হ্যাটট্রিক যেহেতু হয়েই গেছে, অনেকেই ভেবেছিল, পেনাল্টিটা এবার হয়তো কাভানিকেই নিতে দেবেন। কিন্তু নেইমার এসব আবেগের ধারে-কাছেও যাননি। নিজেই পেনাল্টি নিয়েছেন স্বার্থপরের মতো। লিগে করেছেন ১৫তম গোল। উরুগুয়ের স্ট্রাইকার ২১ গোল করে সবার ওপরে। নেইমার হয়তো দ্রুত সেই ব্যবধান কমিয়ে আনতে চান।

কিন্তু ফুটবল দলীয় খেলা। নেইমারের এই অসৌজন্যতা যে হজম করতে কষ্ট হচ্ছিল, সেটা কাভানির শুকনো মুখে অভিবাদন জানানোতেই পরিষ্কার। এমনকি গ্যালারি থেকে এ সময় সিটি বাজিয়ে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করে দর্শকও। চার গোল করে, দুটি গোল করিয়েও এদিন নেইমার সবার মন জিততে পারলেন না! হয়তো বড় মনের পরিচয় দিতে পারেননি বলেই।

দর্শকদের এই আচরণ হয়তো নেইমারও মানতে পারেননি। শেষ বাঁশি বাজার পর মাথা দোলাতে দোলাতে বের হয়েছেন। এমনিতেই রিয়াল মাদ্রিদ তাকে ব্যাংক ভেঙে নিয়ে যেতে তৈরি বলে খবর। এর মধ্যে এই ঘটনা! ম্যাচ শেষে অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা অবশ্য দাবি করেছেন, এমন নয় নেইমার অসন্তুষ্ট। এমন নয়, সমর্থকদের সবাই তার বিরুদ্ধে। ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার বলেছেন, আমার মনে হয় না ও যখন মাঠ ছাড়ছিল, যখন রাগান্বিত ছিল। সমর্থকদের একটা অংশ ওর বিরুদ্ধে ছিল ঠিকই, কিন্তু সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, চূড়ান্ত ফলাফল আর আমাদের জয়। আর এডি (কাভানি) তো একসময় রেকর্ডটা করবেই। ও তো সব সময়ই গোল পায়। এই বছরে ওর রেকর্ডটা ভাঙার জন্য যথেষ্ট সময় পড়ে আছে।

ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের এ প্রসঙ্গে কোচ উনাই এমেরি বলেন, কাভানি আমাদের গোলস্কোরার। সে অনেক উন্নতি করেছে। তার ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান দলকে সহায়তা করে এবং দলও তাকে গোল পেতে সহায়তা করে। নেইমার পেনাল্টি শট নিয়েছে। কাভানিও আরো গোল করার সুযোগ পাবে।