আধুনিক প্রযুক্তি যেন ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলাকে কেড়ে নিচ্ছে।

আধুনিক প্রযুক্তি যেন ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলাকে কেড়ে নিচ্ছে।

73
SHARE

নিজস্ব প্রতিনিধি : মাজারুল ইসলাম: আধুনিকতার ছোঁয়া ও কালের বিবর্তনে মহাকালের পাতা থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী খেলা। অজপাড়াগাঁয়ের কন্যা শিশুদের বউ-পুতুল, চিরচেনা কিশোরদের ডাংঙ্গুলি, কাবাডি, দাঁড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, কানামাছি খেলা গ্রামীণ সংস্কৃতির ঐতিহ্য বহন করতো। শৈশবে যেসব খেলাধুলায় দিন কাটিয়েছেন আজকের বয়ো-বৃদ্ধরা, তারাও এখন ভুলতে বসেছেন সেইসব খেলার নাম। ঘরে ঘওে বেড়ে গেছে ভিডিও গেমস্-এর দৌরাত্ম্য।
ডাংগুলি, গোলাছুট, গোশত তোলা, কুতকুত, হাড়িভাঙা, পাতা আনো, বৌছি, দড়ির লাফ, চেয়ার সিটিং, রুমাল চুরি, বালিশ খেলা, কানামাছি, ওপেন্টি বায়োস্কোপ, এলাটিং বেলাটিং, ইচিং বিচিং, হা-ডু-ডু, কাবাডি, দাঁড়িয়াবান্ধা, নোনতা বলরে, কপাল টোকা, চোর ডাকাত, মার্বেল, সাতচাড়া, ষোলগুড্ডি, মোরগ লড়াই খেলা তেমন চোখে পড়ে না। নতুন প্রজন্মের কাছে এগুলো এখন শুধুই গল্প।
প্রবীন ব্যক্তিদের মতে, গ্রামের এসব খেলার মধ্যে বউ-পুতুল, হা-ডু-ডু, ডাংগুলি, দাঁড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, বৌছি ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয়। এসব খেলা চলাকালে মানুষের ঢল নামতো। এক সময় ছেলে-মেয়েরা গ্রামীণ খেলাকে প্রধান খেলা হিসেবে জানতো। এসব খেলার জায়গায় স্থান দখল করেছে কেরাম, ক্রিকেট, টিভি ও মোবাইল গেমস। আদি ক্রীড়া সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে গ্রামীণ ক্রীড়া ফেডারেশন গঠন করা দরকার। এতে করে আগামী প্রজন্ম আমাদের এসব খেলাকে জানতে পারবে। ভুলে যাবে না শত বছরের নিজস্ব ক্রীড়া ঐতিহ্য।আধুনিক প্রযুক্তি যেমন ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলাকে কেড়ে নিয়েছে, তেমনি প্রজন্মকে ক্রমেই ঠেলে দিচ্ছে মাদকের দিকে। ফলে ভবিষ্যত বাংলাদেশ হচ্ছে মেধাশূন্য। তাই মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে প্রজন্মকে রক্ষা করতে গ্রামীণ খেলাকে বাঁচাতে এদেশের সকলকে এধরনের খেলার আয়োজন করতে হবে। তাছাড়া সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগেও ফিরিয়ে আনা সম্ভব এসব খেলার হারানো ঐতিহ্য। এমনটাই মনে করছেন সবাই।