রংপুর সিটি ভোট: প্রার্থীদের হলফনামার তথ্য তুলে ধরল সুজন

রংপুর সিটি ভোট: প্রার্থীদের হলফনামার তথ্য তুলে ধরল সুজন

88
SHARE

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে ভোটারদের সুবিধার জন্য মেয়র পদের সাত প্রার্থীর বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেছে বেসরকারি সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন।

নির্বাচনী হলফনামায় মেয়র প্রার্থীরা নিজেদের সম্পর্কে যেসব তথ্য দিয়েছেন, তা যাচাই করে ভোটারদের কাছে তুলে ধরতে সোমবার ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে এই এক সংবাদ সম্মেলন করে সংস্থাটি।

এতে প্রার্থীদের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে সুজনের সহকারী সমন্বয়কারী সানজিদা হক বিপাশা জানান, সাত মেয়র প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনই (৭১ দশমিক ৪২ শতাংশ) ব্যবসায়ী বলে তাদের হলফনামায় তুলে ধরেছেন।

বাকি দুইজনের মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু পেশা হিসেবে ‘রাজনীতি’ উল্লেখ করলেও বাসদের প্রার্থী মো. আব্দুল কুদ্দুছ কোনো পেশা উল্লেখ করেননি।

অন্য মেয়র প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির কাওসার জামান বাবলা, জাতীয় পার্টির মো. মোস্তাফিজার রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এটিএম গোলাম মোস্তফা, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. সেলিম আখতার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার।

মেয়র প্রার্থীদের চারজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে জানিয়ে সানজিদা হক বিপাশা বলেন, “কাওছার জামানের বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা আছে এবং অতীতেও ছিল। এছাড়া আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে বর্তমানে ফৌজদারি মামলা রয়েছে।

“জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মোস্তাফিজার রহমান ও সরফুদ্দীন আহমেদের বিরুদ্ধে অতীতে ফৌজদারি মামলা ছিল।”

অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের গোলাম মোস্তফা, ন্যাশনাল পিপলসের সেলিম আখতার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসেন মকবুল শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে কখনও কোনো মামলা ছিল না বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

এছাড়া সরফুদ্দীন আহমেদ, কাওছার জামান, মোস্তাফিজার রহমান ও হোসেন মকবুল শাহরিয়ারের দায়-দেনা ও ঋণ রয়েছে বলে জানায় সুজন।

মেয়র প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিষয়ে সুজন জানায়, আব্দুল কুদ্দুছ ও গোলাম মোস্তফার শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর; কাওছার জামান, মোস্তাফিজার রহমান ও সরফুদ্দীন আহমেদ স্নাতক এবং সেলিম আখতার ও হোসেন মকবুল শাহরিয়ার এইচএসসি পাস।

এবারের সাত মেয়র প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজন- সরফুদ্দীন আহমেদ, কাওছার জামান, মোস্তাফিজার রহমান, আব্দুল কুদ্দুছ ও এটিএম গোলাম মোস্তফা ২০১২ সালের সিটি নির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছিলেন।

সুজন বলছে, ২০১২ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে চারজনের সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। তাদের মধ্যে সরফুদ্দীন আহমেদের ৬৭৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ, কাওছার জামানের এক হাজার ৯৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ, মোস্তাফিজার রহমানের ১০ দশমিক ৩৬ শতাংশ ও আব্দুল কুদ্দুছের সম্পদের পরিমাণ দুই হাজার ৯৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদের মধ্যে বিএনপি প্রার্থী কাওছার জামানের সম্পদ সবচেয়ে বেশি এক কোটি ৪৬ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৭ টাকা বেড়েছে। আর আওয়ামী লীগ প্রার্থী সরফুদ্দীন আহম্মেদের সম্পত্তি বৃদ্ধি পেয়েছে এক কোটি ৩৩ লাখ ৮০ হাজার ১১৮ টাকা।

২০১২ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে চার হাজার ১৬১ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি আয়কর দিয়েছেন আওয়ামী প্রার্থী সরফুদ্দীন আহম্মেদ। তিনি ২০১২ সালে তিন হাজার টাকা আয়কর দিলেও সর্বশেষ অর্থবছরে এক লাখ ২৭ হাজার ৮৪৬ টাকা আয়কর দিয়েছেন।

অপরদিকে একই সময়ে আয়কর দেওয়া কমেছে দুই প্রার্থীর। বিএনপির কাওছার জামান ৯০ শতাংশ ও জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান ২০১২ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে ৮১ দশমিক ৪৮ শতাংশ কম আয়কর দিয়েছেন।

এই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩৩টি সাধারণ ওয়ার্ডের ২১২ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী ও ১১টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৬৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তাদের পেশার বিষয়ে সুজন জানায়, ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে ৭০ দশমিক ৭৫ শতাংশের পেশা ব্যবসা, ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ কৃষি ও ৮ শতাংশ প্রার্থী তাদের পেশা উল্লেখ করেননি।

সংরক্ষিত প্রার্থীদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৫৩ শতাংশ গৃহিণী, ২১ দশমিক ৫৩ ব্যবসা এবং ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ প্রার্থী পেশা উল্লেখ করেননি।

এসব তথ্য জানিয়ে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “এসব তথ্য নির্বাচন কমিশনে প্রার্থীরা তাদের হলফনামাতে দিয়েছেন, এখানে আমাদের বানানো কোনো তথ্য নেই, কোনো তথ্য সংযোজন করা হয়নি। এসব তথ্য গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।”

তিনি বলেন, “যে দেশে নাগরিকরা বেশি সচেতন, সেই দেশের গণতন্ত্র সবচেয়ে বেশি কার্যকর। জনগণ এসব তথ্যের ভিত্তিতে যাতে সঠিক প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পারেন, সেইজন্য এসব তথ্য দেওয়া। আমরা নাগরিক দায়িত্ব বোধ থেকে এই কাজটি করেছি।”

তবে হলফনামাতে প্রার্থীরা যেসব তথ্য দিয়েছেন সেগুলো নির্বাচন কমিশনকে যাচাই-বাছাই করে দেখার আহ্বান জানান সুজন সম্পাদক।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে সংস্থাটির সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান, সহ-সম্পাদক জাকির হোসেন এবং নির্বাহী সদস্য আবুল মকসুদও উপস্থিত ছিলেন।