মহিউদ্দিনের কুলখানির মেজবানে পদদলিত হয়ে নিহত ১০

মহিউদ্দিনের কুলখানির মেজবানে পদদলিত হয়ে নিহত ১০

65
SHARE

চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানির মেজবানে ভিড়ের মধ্যে পদদলিত হয়ে অন্তত দশ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার দুপুরে নগরীর জামালখান আসকার দীঘির পাড়ে রীমা কমিউনিটি সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার জানান, ওই কমিউনিটি সেন্টার থেকে অন্তত ১৫ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে দশজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে ছয়জনের নাম জানাতে পেরেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা হলেন- কৃষ্ণপদ দাশ (৪০), সুবীর দাশ (৫০), ঝণ্টু দাশ (৪৫), প্রদীপ তালুকদার (৪৫), লিটন দেব (৫৩) ও ঘনা শীল (৬০)।

এ ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী মহিবুল হাসান নওফেল। সেখানে গিয়ে তিনি নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়লে পরে তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।

চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। প্রায় ১৬ বছর চট্টগ্রামের মেয়রের দায়িত্ব পালন করা এই রাজনীতিবিদ স্থানীয়ভাবে ছিলেন দারুণ জনপ্রিয়।

তার কুলখানির জন্য সোমবার পরিবারের পক্ষ থেকে নগরীর ১৪টি কমিউনিটি সেন্টারে মেজবানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অমুসলিম এবং যারা গোমাংস খান না, তাদের জন্য মেজবানের ব্যবস্থা হয়েছিল ওই রীমা কমিউনিটি সেন্টারে।

ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের একজন প্রতিবেদক জানান, দুই তলা ওই কমিউনিটি সেন্টার ভবনের নিচতলায় মূলত গাড়ি রাখা হয়। বসা ও খাওয়ার ব্যবস্থা দোতলায়।

আসকার দীঘির পাড় কিছুটা নিচু এলাকা হওয়ায় ওই এলাকার অধিকাংশ ভবনের মত রীমা কমিউনিটি সেন্টারের প্রবেশ পথও বেশ খানিকটা ঢালু। সেখানেই ভিড়ের মধ্যে পদদলনের ঘটনা ঘটে।

সেখানে দায়িত্বরত স্বেচ্ছাসেবক অনুপ দাস জানান, হুড়োহুড়ির ঘটনায় তিনি নিজেও পায়ে ব্যথা পেয়েছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “ফটকের বাইরে ছিল অনেক মানুষের ভিড়। ঢোকার সময় পেছনের চাপে সামনে ওই ঢালু জায়গায় থাকা বেশ কয়েকজন পড়ে যান। তখন তাদের ওপর দিয়েই পেছনের লোকজন হুড়মুড় করে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। ফলে অনেক মানুষ হতাহত হয়।”

চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, “অনেকে পড়ে গেছেন, মানুষের ভিড়ের কারণে অনেকে পদদলিত হয়েছেন।”

কমিউনিটি সেন্টারের ফটকে পুলিশের তৎপরতার অভাব ছিল কি না জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত নয়।

“এটা মারামারি বা গ্রুপিং বা অন্য কোনো বিষয় না। নিরাপত্তার অভাব হয়নি, অতিরিক্ত মানুষের কারণে এবং ঢোকার সময় হুড়োহুড়ির কারণে অনেকে পড়ে গিয়ে পদদলিত হয়েছেন।”

অন্য যেসব কমিউনিটি সেন্টারে মেজবানের ব্যবস্থা হয়েছে, সেসব জায়গায় দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানান ইকবাল বাহার।

এই আয়োজনে রীমা কমিউনিটি সেন্টারের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন আন্দরকিল্লার ওয়ার্ড কাউন্সিলর নগর আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক জহরলাল হাজারী।

তিনি জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে এক লাখ টাকা এবং শেষকৃত্যের জন্য পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া আহতদের চিকিৎসা ব্যয়ও পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী, নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, রাউজানের সাংসদ ফজলে করিম চৌধুরী এবং নগর আওয়ামী লীগের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এর আগে বাংলাদেশে পদদলনে হতাহতের দটো বড় ঘটনা ঘটেছিল ২০১৫ সালে।

ওই বছর জুলাই মাসে ময়মনসিংহে জাকাতের কাপড় নিতে গিয়ে হুড়োহুড়িতে ২৭ নারী ও শিশুর মৃত্যু হয়।

তার আগে মার্চ মাসে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী পুণ্যস্নানের সময় পদদলিত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়।