আপন মালিক তিন ভাইয়ের জামিন স্থগিত

আপন মালিক তিন ভাইয়ের জামিন স্থগিত

93
SHARE

মুদ্রা পাচারের তিন মামলায় আপন জুয়েলার্সের তিন মালিককে দেওয়া জামিন স্থগিত করেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

হাই কোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনে অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী সোমবার এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। আপন জুয়েলার্সের মালিক তিন ভাই দিলদার আহমেদ, গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদের পক্ষে ছিলেন জয়নুল আবেদীন ও মুন্সী মুনরুজ্জামান।

মোতাহার হোসেন সাজু পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, তিন মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক তিন ভাইকে দেওয়া জামিন ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেছে চেম্বার আদালত।

“জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল ফাইল করেছে। ২১ ডিসেম্বর ফাইল আদালতে উঠবে।”

রাজধানীর গুলশান, ধানমন্ডি, রমনা ও উত্তরা থানায় আপন জুয়েলার্সের মালিকদের বিরুদ্ধে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের করা পাঁচ মামলার মধ্যে তিনটিতে গত ১৪ ডিসেম্বর তিন ভাইকে জামিন দেয় দেয় হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ।

উত্তরা ও ধানমণ্ডি থানার অন্য দুটি মামলায় দিলদার আহমেদের জামিন আবেদনের শুনানি হাই কোর্ট সেদিন মুলতবি (স্ট্যান্ডওভার) রাখে।

এর আগে ২২ নভেম্বর আপন জুয়েলার্সের মালিকদের কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিল হাই কোর্ট।

বনানীর একটি হোটেলে জন্মদিনের অনুষ্ঠানের নামে ডেকে নিয়ে দুই তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গত মে মাসে গ্রেপ্তার হন আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদারের ছেলে সাফাত আহমেদ।

ওই ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হলে আপন জুয়েলার্সের ‘অবৈধ লেনদেন’ এর খোঁজে তদন্তে নামে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ।

এরপর মে মাসের শেষ দিকে আপন জুয়েলার্সের বিভিন্ন বিক্রয় কেন্দ্র থেকে ১৫ দশমিক ৩ মণ সোনা এবং ৭ হাজার ৩৬৯ টি হীরার অলঙ্কার জব্দ করে তা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে অনুসন্ধান শেষে গত ১২ আগস্ট আপন জুয়েলার্সের মালিক তিন ভাই দিলদার আহমেদ, গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদের বিরুদ্ধে মুদ্রা পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে গুলশান, ধানমন্ডি, রমনা ও উত্তরা থানায় পাঁচটি মামলা করা হয়।

দুই মামলায় গত ২২ আগস্ট তিন ভাই হাই কোর্ট থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নেন। এরপর বিচারিক আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় গত ২৩ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

পরদিন আত্মসমর্পণ করলে তাদের কারাগারে পাঠায় আদালত। এর বিরুদ্ধে হাই কোর্টে পাঁচ মামলায় জামিন আবেদন করেন আপন জুয়েলার্সের মালিক তিন ভাই।

প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২২ নভেম্বর আপন জুয়েলার্সের মালিকদের কেন জামিন দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছিল হাই কোর্ট। তারপর গত ১৪ ডিসেম্বর তিন ভাইকে তিন মামলায় জামিন দেয় আদালত।